চট্টগ্রামের খুলশীর বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের (বিবিএমএইচ) ১৯ নার্সসহ মোট ৩৪ জনকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে আন্দোলন করেছে প্রতিষ্ঠানটির নার্স আয়সহ কর্মচারীরা।
গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা।
গত ৮ এপ্রিল ১৯ নার্স এবং ১৫ আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এক মাসের সময় দিয়ে নোটিস বোর্ডে চাকরির অব্যাহতির বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রতিষ্ঠানটি। যা আগামী ৫ মে থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, নার্সরা মাধ্যমিক পাস নয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় নার্সদের ডিগ্রি না থাকায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে চাকরিচ্যুত হওয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা দীর্ঘসময় ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত। এমন পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে হতবাক সবাই।
চাকরিচ্যুত এক নার্স বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর কাজ করছি। অথচ মূল্যায়ন পেলাম না। আমাদের কোনো কারণ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই মুহূর্তে চাকরি হারিয়ে অর্থকষ্টে পড়ে গেছি। তাই সবাই মিলে আন্দোলনের ডাক দিয়েছি। চাকরি কেড়ে নেওয়ার দুঃসাহস যাতে অন্য কেউ দেখাতে না পারে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসটিসি) অধীনে ছিল বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল। পরে ইউএসটিসি আলাদা করা হয়। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক প্রয়াত ডা. নুরুল ইসলাম।
এ বিষয়ে বিবিএমএইচের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. কামরুল হাসান জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপ্লোমাধারী নার্স রাখতে হবে হাসপাতালে। তাই ট্রাস্টি বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিপ্লোমাধারীদের নিয়োগ দেবে। যাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তাদের নার্সিং ডিপ্লোমা নেই, শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিকও নয়। এছাড়া আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বয়সও বেশি।
ইউএসটিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান বলেন, ‘যে কারণে ৩৯ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তা অযৌক্তিক। তাই আমরা আন্দোলন করেছি। আজ (রবিবার) ২০০ জনের মতো জমায়েত হয়েছিলাম। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে। আগামীকালও আমরা আন্দোলন করব। আজ প্রতিষ্ঠানটির কয়েক কর্মকর্তা এসেছিলেন, তাদের আমরা দাবিদাওয়া সম্পর্কে জানিয়েছি। কর্মকর্তারা বলেছেন তারা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানকে জানাবেন।’
তিনি আরও বলেন, এখন রোজা চলছে, সামনে ঈদ; করোনার এমন দুর্যোগে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। এত বছর যারা শ্রম দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে তাদের মূল্যায়ন না করে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
