হেঁটে ক্লান্ত গার্মেন্টসকর্মী- ‘ঢাকা আর কত দূর?’

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ০২:১০ পিএম

‘গার্মেন্টস খুলেছে। না গেলে চাকরি থাকবে না। তাই ২শ টাকার স্থলে ৪ হাজার টাকা খরচ করেও ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলাম না। জানি না কখন গিয়ে ঢাকা পৌঁছাবো।’

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে যেতে ক্লান্ত শরীরে আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন সিরাজগঞ্জ সদরের গার্মেন্টসকর্মী আলমগীর হোসেন। তিনি বললেন, ‘ঢাকা আর কতদূর?’

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন বন্ধের পাশাপাশি সরকার পোশাক কারখানা্ও বন্ধ ঘোষণা করে। তখন রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের স্রোত বয়ে যায়। মালিক পক্ষ গার্মেন্টস খোলার ঘোষণা দিলে আবার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে ঢাকার দিকে জনস্রোত বইতে থাকে।

গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও কারখানার শ্রমিকরা চাকরি বাঁচাতে হেঁটেই ঢাকার দিকে ছুটছেন।

সোমবার ভোর বেলা থেকে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরী চরপাড়া থেকে বাইপাস বাসস্টেশন পর্যন্ত কারখানা শ্রমিকদের লাইন দেখা যায়।

দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকার দিকে রওনা দেয়া কারখানার শ্রমিকরা কখনো রিকশা, কখনো পিকআপ আবার পায়ে হেঁটেই চলেছেন ঢাকার দিকে। ক্লান্ত হয়ে রাস্তায়ই কেউ বসে পড়ছেন, খানিকটা বিশ্রাম করে আবার ছুটছেন।

image

সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, চাকরি বাঁচাতে ২শ টাকার স্থলে দুই-তিন হাজার টাকা খরচ করেও ঢাকা পৌঁছানোর কোনো নিশ্চয়তা নেই। তারা আক্ষেপ করে বলেন, যত কষ্ট শুধু আমাদের। মালিক পক্ষ সরকারের সাথে কথা না বলেই কারখানা খুলে দিলো আর চাপ পড়ল আমাদের ও্পর।

সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার পোশাকশ্রমিক চান মিয়া হাঁটতে হাঁটতে বলেন, ভোর রাতে রওনা দিয়েছি গাজীপুর যাবো। রাস্তায় প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ করেছি কিন্তু কখন পৌঁছাবো জানি না।

একই উপজেলার আরেক গার্মেন্টসকর্মী ফাতেমা বলেন, রাস্তায় গাড়ি নেই। এখন কারখানা খুলল তাই রিকশাভ্যান, পায়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছি। এরই মধ্যে আবার রাস্তায় রাস্তায় পুলিশের বাধা। এত কষ্ট করেও চাকরিটা যদি বাঁচাতে পারি তবেই রক্ষা।

মির্জাপুর উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী চরপাড়ায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ। জরুরি প্রয়োজনে ট্রাক চলছে। এর মধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মানুষ যাচ্ছে। সিগন্যাল দিলেই উল্টো ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, কারখানার শ্রমিকরা চাকরি রক্ষার উদ্দেশ্যে ঢাকা গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে চলতে হবে। তাদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত