বেতন-ভাতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ১২ সিটি করপোরেশন

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২০, ০৫:৪০ এএম

করোনাভাইরাসের ধাক্কা লেগেছে দেশের সব সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ে। গত এক থেকে দেড় মাস ধরে ১২টি সিটি করপোরেশনে গৃহকর, ট্রেড লাইসেন্স ফি, ভূমি হস্তান্তর ফি, বিভিন্ন স্থাপনার ভাড়াসহ সব ধরনের রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে। এতে চলতি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করা নিয়ে সিটি করপোরেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন খাতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও করপোরেশনের নিজস্ব আয় থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হয়। এই অবস্থায় বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে অর্থ চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেশিরভাগ সিটি করপোরেশন। একাধিক করপোরেশনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে। বিশেষ করে গৃহকর আর বাজার সালামি আদায় বন্ধ রয়েছে। এই দুই খাত থেকেই বেশি রাজস্ব আসে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজার সালামি খাত থেকে এসেছিল ৬১ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে কর (গৃহ) এসেছিল ২১১ কোটি টাকা। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজার সালামি থেকে আয় ধরা হয়েছে ৩১০ কোটি টাকা। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ধারেকাছেও যেতে পারেনি সংস্থাটি। এ অবস্থায় চলতি মাসের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে সংস্থাটি।

ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. ইউসুফ আলী সরদার বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়েই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। এবার যোগ হয়েছে করোনাভাইরাসের আঘাত। গত দেড় মাস ধরে আমাদের রাজস্ব আদায় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। চলতি মাসের বেতন-বোনাস দিতে লাগবে ৩৭-৩৮ কোটি টাকা। এ টাকা আমরা সরকারের কাছে চেয়েছি। যদি সরকারের কাছ থেকে টাকা পাওয়া যায় তাহলে বেতন-বোনাস দিতে কোনো অসুবিধা হবে না।’

একই অবস্থা তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ক্ষেত্রেও। সংস্থাটির দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আর্থিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে করোনাভাইরাসের জন্য। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সব ধরনের রাজস্ব আদায় বন্ধ। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলতি মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস পরিশোধ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ডিএসসিসির মতো চসিকও বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চসিক কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে অন্তত সাড়ে ৯ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। তাদের মাসিক বেতনই আসে ২০ কোটি টাকার মতো। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে আসন্ন ঈদ বোনাসের জন্য আরও সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে বেতন-ভাতা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন করপোরেশনের কর্মীদের অনেকেই।

তারা আরও জানান, করপোরেশনের রাজস্ব আয়ের বড় খাত হচ্ছে গৃহকর। এই খাতে প্রতি মাসে গড়ে ১১ কোটি টাকা আয় হয়। এ ছাড়া ভূমি হস্তান্তর, ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন স্থাপনার ভাড়াও রয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ২১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে মার্চে আয় হয় ১৭ কোটি টাকা। ২৬ মার্চ থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর রাজস্ব আদায়ও বন্ধ হয়ে যায়। এপ্রিল মাসে বেশি রাজস্ব আসে এমন খাতগুলো থেকে কোনো টাকা আসেনি। এর কারণ হলো করোনার ভয়ে কর আদায়কারীরা ভবনমালিকদের কাছে যেতে পারেননি। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ট্রেড লাইসেন্স ফিও আদায় করা যাচ্ছে না।

চসিকের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, ‘করপোরেশনের কাছে দুই ধরনের অর্থ আসে। একটি সরকারের উন্নয়ন খাতের টাকা, আরেকটি রাজস্ব আয়। রাজস্ব থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। এপ্রিল মাসে চসিকের নিজস্ব কোনো আয় হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত