লকডাউন নারায়ণগঞ্জ: যাত্রী বোঝাই করে চলছে নৌকা, সড়কে রিকশার রাজত্ব

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২০, ০৫:০২ পিএম

শীতলক্ষ্যা নদীর খেয়াঘাট ফের লোকে লোকারণ্য। দেখলে মনে হবে যেন লকডাউন তুলে দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের মতো নৌকা বোঝাই করে পারাপার হচ্ছে মানুষ।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের মূল খেয়াঘাট বন্ধ থাকলেও ৩শ গজ দূরে বিআইডব্লিউটিএ অফিসের সীমানা ঘেঁষেই ৩নং ঘাটে দেদারসে নৌকায় পারাপার হচ্ছে মানুষ। দুইপাড়ে শত শত মানুষের ভিড়। নদী পাড় হতে ব্যাকুল মানুষগুলো সামাজিক দূরত্ব দূরে থাক শারীরিক দূরত্বও মানছেন না। একেকটি নৌকায় ২০ থেকে ২৫ জন করেও পারাপার হচ্ছে।

নদীর পূর্বপাড়ে পুলিশ সদস্যরা রিকশা চালকদের পিটিয়ে তাড়িয়ে দিলেও করোনা ঝুঁকি নিয়ে নৌকা পারাপারের বিষয়ে তারা নিশ্চুপ।

কর্তব্যরত বন্দর ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, গার্মেন্টস খোলার কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য নৌকা পারাপার শিথিল করা হয়েছে। তবে রিকশায় ২/৩ জন উঠে সামাজিক দূরত্ব মানছেন না, তাই তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন।

নৌকায় ২০/২৫ জন গাদাগাদি করে পারাপার হচ্ছে, এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেই কেন জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে চলে যান।

নারায়ণগঞ্জ শহর ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় লোক সমাগম ব্যাপক। বিপুল পরিমাণ রিকশা দাবড়ে বেড়াচ্ছে গোটা শহরজুড়ে। দিগুবাবুর বাজারের কাঁচা তরিতরকারির দোকান জিমখানা মাঠে সরিয়ে নিলেও ভ্যানগাড়িতে বসেছে শাক সবজির পসরা। এখান থেকেই মানুষ প্রয়োজনীয় কাঁচা বাজার নিচ্ছে। শহরের শেষ মাথায় বাজার স্থানান্তর করায় ওখানে যেতে আগ্রহ কম বলে জানিয়েছে ক্রেতারা। 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের করোনা প্রথম ছোবল হানে ৮ মার্চ। আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুজনই নারায়ণগঞ্জের। তবে এপ্রিলে করোনা দেশে সবচেয়ে বিধ্বংসী রূপ নেয়। আর করোনার আক্রমণ চড়াও হয় নারায়ণগঞ্জের ওপর। এপ্রিলের শুরু থেকেই জেলায় করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। যার ফলে ৭ এপ্রিল রাতে লকডাউন ঘোষণা করা হয় নারায়ণগঞ্জকে।

নারায়ণগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা ফোকাল পারসন ডা. জায়েদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, সর্বশেষ রিপোর্ট অনুসারে মঙ্গলবার পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৭৪২ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৪২ জন। সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৩০ জন। আইসোলেশনে রয়েছেন ১৬ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৮৫ জন। কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৬১৭ জন। ১ মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিদেশ থেকে ফিরেছেন মোট ৬০৯১ জন। বিদেশ ফেরতদের মধ্যে ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত হয়েছে ১২৮২ জনের।

এ দিকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধের অভাব লক্ষ্য করা গেছে। হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাটে মানুষ অপ্রয়োজনেও ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পাড়া-মহল্লাতেও মানুষকে আটকে রাখা যাচ্ছে না। গত ১৫ দিনের হিসেবে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে তাতে আগামী ৫ মে পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি পর্যন্ত মানুষ লকডাউন না মানলে নারায়ণগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে কয়েকগুণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত