চীনের উহান প্রদেশে করোনায় আক্রান্ত শেষ রোগীকেও হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হলো। পাশাপাশি, তিন মাসে এই প্রথম একদিনে উহানে একটিও করোনা পজিটিভ রোগীর খোঁজ মেলেনি। ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, চীনে মারণ ভাইরাসের শিকার হয়েছে ৮২ হাজার ৮৩০ জন। এখনো পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৩। পরিস্থিতি বেশ খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসায় ধীরে ধীরে চীনে স্কুলগুলি খুলতে শুরু করেছে। তবে, পড়ুয়ারা যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, সেদিকে কড়া নজর রাখছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
করোনা সংক্রমণ নিয়ে চীন-আমেরিকা বাগযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। মারণ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়ে বেইজিংকে বারবার কাঠগড়ায় তুলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এদিন চীন পাল্টা তোপ দেগেছে আমেরিকার বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং সুয়াং বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেদের ভুলভ্রান্তি আড়াল করার জন্যই চীনের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে আমেরিকা। এর ফলে করোনার জেরে যারা গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে, তাদের আরও ক্ষতি হবে। আন্তর্জাতিক স্তরে মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইও কঠিন হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত মারণ ভাইরাসের শিকার হয়েছেন ৩০ লক্ষ ১৪ হাজার ৭৩ জন। পাশাপাশি, মৃতের সংখ্যা ২ লক্ষ ৮ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। দেশের নিরিখে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা আমেরিকার। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লক্ষ ছুঁতে চলেছে। প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫ হাজার ৪১৩ জন। এর মধ্যে নিউ ইয়র্কেই মৃত্যু হয়েছে ২২ হাজার ২৭৫ জনের। এদিকে, সংক্রমণে পুরোপুরি রাশ টানতে না পারলেও জর্জিয়ায় লকডাউন ধাপে ধাপে শিথিল করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই স্পা, সেলুন খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এবার সেখানে শর্তসাপেক্ষে রেস্তোরাঁ ও সিনেমা হল খোলার সবুজ সংকেত দিল প্রশাসন।
ইউরোপের দেশগুলিতে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। গত ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে নতুন করে ৩৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মোট ২ লক্ষ ৩০ হাজার। সেই সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছে ২৩ হাজার ৫২১ জন। দিন কয়েক আগে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তারপরই দেশ থেকে ধাপে ধাপে লকডাউন তুলতে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন তিনি। ব্রিটেনে সব মিলিয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে ১ লক্ষ ২ হাজার ৮৪০ এবং ২০ হাজার ৭৩২। এ ছাড়া ইতালি ও ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৬৪৪ ও ২২ হাজার ৮৫৬।
অন্যদিকে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতেও থাবা বসিয়েছে মারণ করোনা। মার্চ মাস থেকে এখনো পর্যন্ত সেদেশের ৮৭৪ জন সেনাকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। সে দেশে মোট আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ৮০ হাজার ৯৪৯ এবং ৭৪৭। এদিকে, জাপান করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্তেও কড়াকড়ি বাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন দেশে আসা-যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সেদেশের সরকার। এদিন এই তালিকায় রাশিয়া, পেরু ও সৌদি আরব সহ ১৪টি দেশের নাম যুক্ত করা হয়েছে। আপাতত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭০টি দেশের উপর এই বিধিনিষেধ জারি থাকবে।
সিঙ্গাপুরে নতুন করে করোনার শিকার হয়েছেন ৭৯৯ জন। সার্বিকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। পাকিস্তানেও করোনার থাবা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত ১৩ হাজার ৩২৮ জনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। প্রাণ হারিয়েছেন ২৮১ জন।
