সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে দাম্পত্য কলহের জের ধরে ৮ মাসের ছেলেকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে।
পুলিশ এ ঘটনায় নিহত ফাহিমের মা মোছা. মুক্তা খাতুনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে।
উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জোতপাড়া গ্রামে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহিম ওই গ্রামের রডমিস্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মানুনের একমাত্র ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
এছাড়া নিহতের নানা মোহাম্মদ আলী ও নানি দুলু খাতুনকেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ বিষয়ে নিহতেরর দাদি পরীছন পারভীন ও চাচা আসাদুজ্জামান বলেন, এদিন সন্ধ্যায় ইফতার শেষে মাহিমের বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুন ধান কাটতে বাড়ি থেকে রওনা হন।
তারা তাকে এগিয়ে দিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফিরে এসে দেখেন ঘরের মেঝেতে শিশুর গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। এ সময় তার মুখ লাল টেপ দিয়ে আটকানো ও মা মুক্তা পলাতক রয়েছে।
এ বিষয়ে নিহতের অপর এক চাচা আমিরুল ইসলাম বলেন, ৩ বছর আগে ছোট মহারাজপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে মুক্তা পারভীনকে বিয়ে করেন আব্দুল্লাহ। দাম্পত্য কলহের কারণে মুক্তা সংসার করতে রাজি না হওয়ায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। কিছুদিন পর মুক্তার অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি টের পায়। তখন উভয় পক্ষের সম্মতিতে তারা বিবাহ বিচ্ছেদ বাতিল করে সংসার শুরু করেন।
৮ মাস আগে ফাহিমের জন্ম হয়। মুক্তা মাঝে মধ্যেই বাবার বাড়ি গিয়ে আর শ্বশুর বাড়ি আসতে চান না। অনেক দেন দরবার করে আনতে হয়। মামুন পেশায় রডমিস্ত্রী।
বাগেরহাট এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পাওয়ার প্লান্টে রডমিস্ত্রীর কাজ করেন। করোনার কারণে কাজ বন্ধ থাকায় ২৩ দিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। বাড়িতে বেকার বসে না থেকে তিনি মঙ্গলবার রাতে তাড়াশ এলাকায় ধান কাটতে রওনা দেন।
এ সময় তার মা, বাবা ও বোন তাকে এগিয়ে দিতে গেলে বাড়ি জনশূন্য হয়ে পড়ার সুযোগে আমকাটা ছুরি দিয়ে গলা কেটে নিজের একমাত্র সন্তানকে হত্যার পর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাবার বাড়ি গিয়ে আত্মগোপন করেন মুক্তা খাতুন।
বিষয়টি পুলিশ বুঝতে পেরে ছোট মহারাজপুর গ্রাম থেকে মুক্তার বাবা মোহাম্মদ আলী ও মা দুলু খাতুনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বুধবার ভোর রাতে মুক্তার এক চাচা তাকে পুলিশে সোপর্দ করে।
তিনি আরো বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এ হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি আমকাটা ছুরি উদ্ধার করেছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নিহত ফাহিমের বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে মুক্তা পারভীনকে একমাত্র আসামি করে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি আরো বলেন, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তা পারভীন এ হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
বুধবার সকালে শিশুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এ দিন দুপুরে আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত মাকে সিরাজগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
