ভাইরাস ‘ইমিউনিটি পাসপোর্টের’ রাজনীতি

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২০, ০৫:৫৪ এএম

বিশ্বজুড়েই সরকার ও সংস্থাগুলো বিতর্কিত ‘ইমিউনিটি পাসপোর্টের’ ব্যবহার করতে চাইছে। এ পাসপোর্টের ব্যবহার শুরু হলে লকডাউন তুলতে ও মানুষের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ অনেক কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ পাসপোর্টে পাসপোর্টধারী ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি পর্যাপ্ত মাত্রায় রয়েছে এমনটা লেখা থাকার কথা রয়েছে। যদিও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা এর ব্যবহার নিয়ে সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, এ পাসপোর্ট চালু হলে মানবশরীরে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার নিখুঁততা নিয়ে উদ্বেগ শুরু হবে। পাশাপাশি গোপনীয়তা ও তথ্যের ভুল ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়বে।

ইমিউনিটি পাসপোর্টের পক্ষের লোকজন বলছেন, যাদের ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো আছে তাদের ডিজিটাল সনদ দেওয়া হোক, যা স্মার্টফোনে করে বোর্ডিং পাসের মতো ব্যবহার করা যাবে। অথবা কাগজেও হতে পারে এ সনদ। ডিজিটাল আইডেনটিটি স্টার্টাপ অনফিডোর নির্বাহী প্রধান হুসাইন কাসাই বলেন, ‘এমন অবস্থা যদি আর ছয় বা নয় মাস চলে, অথবা আক্রান্তের যদি দ্বিতীয় ঢল নামে, আপনি ধরে নিতে পারেন মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে চাইবে। আর এজন্যই এমন একটা পন্থা দরকার যা মানুষের ইমিউনিটি পরীক্ষা করবে। ইমিউনিটি পাসপোর্ট মানুষের উপকারে আসবে। অনেক মানুষকে ঘরে থাকতে সাহায্য করবে এ পাসপোর্ট।’

অনফিডো ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ সরকার ও অন্য কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে। বাড়িতে পরীক্ষা করা যায় এমন একটি কিট দিয়ে ইমিউনিটি পরীক্ষা করা যাবে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। কারও ইমিউন ভালো থাকলে কিটে সবুজ সংকেত উঠবে। আংশিক ইমিউন থাকলে হলুদ আর ঝুঁকিতে কিংবা না থাকলে লাল রং উঠবে। পরীক্ষার ফলাফল একটি ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা যাবে বলেও জানানো হচ্ছে।

ফ্রান্সের প্রযুক্তি কোম্পানি সোসিওস খেলোয়াড়দের জন্য এমন ইমিউনিটি পাসপোর্ট তৈরি করে আসছে। খেলার মাঠে যাতে কম ঝুঁকিপূর্ণ সমর্থকরাই শুধু খেলা দেখতে আসতে পারে, তা নিশ্চিতেই এ কিট বানাচ্ছে কোম্পানিটি। এদিকে চিলি চলতি মাস থেকেই করোনা আরোগ্যদের এমন সনদ দেওয়া শুরু করেছে। জার্মানিসহ আরও কয়েকটি স্থানে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, মানুষকে ঝুঁকিমুক্ত বলার মতো যথেষ্ট প্রমাণ বের করা সম্ভব নয়। তবে সংস্থাটি আশা করে, করোনায় যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা নিজেদের উদ্যোগেই শরীরে ইমিউনিটি বাড়াতে সচেষ্ট হবে, যাতে নিজেদের পাশাপাশি অন্যকে তারা ঝুঁকির মধ্যে না ফেলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত