করোনা প্রতিরোধের আশায় যক্ষ্মার টিকা নিয়ে ২৫ প্রতিষ্ঠানের গবেষণা

আপডেট : ০২ মে ২০২০, ০৫:২৫ পিএম

করোনা প্রতিরোধের জন্য নতুন ভ্যাকসিন আসার আগে প্রচলিত ভ্যাকসিন দিয়ে কাজ চলতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন। প্রায় শত বছর ধরে ব্যবহার করা ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুয়েরিন বা বিসিজি টিকা নিয়ে ইতিমধ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, সেটির বিষয়ে নিশ্চিত হতে ২৫টি ইউনিভার্সিটি এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র গবেষণা শুরু করেছে।

দ্য ইকোনমিক টাইমসের বিজ্ঞান বিষয়ক লেখিকা মেলিন্ডা ওয়েনার মোয়ার টিকাটির বিষয়ে বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন করেছেন। শনিবারের সেই প্রতিবেদনে ওয়েনার মোয়ার জানান, ইমিউনোলজির কিছু উপযুক্ত অঞ্চলে দেখা গেছে, কয়েক দশক ধরে ব্যবহৃত হওয়া লাইভ ভ্যাকসিন করোনাভাইরাস থেকে পৃথিবীবাসীকে রক্ষা করতে পারে। বলা হচ্ছে, এই ভ্যাকসিন নিলে কভিড-১৯ রোগ কম ক্ষতি করতে পরে।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক জন বিজ্ঞানী ফান্ড জোগাড় করে লাইভ পলিও ভ্যাকসিন বা ও.পি.ভি পরীক্ষার চেষ্টায় আছেন। এই টিকা ৬০ বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিসিজি টিকা মানুষকে করোনাভাইরাস-মুক্ত রাখলে ভারত-বাংলাদেশের মুখে হাসি ফোটার কথা সবার আগে। এশিয়ার দেশগুলোতে এই টিকা বেশি দেয়া হয়।

১৯২১ সালে প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটে প্রতিষেধকটি আবিষ্কার করেন ক্যামিল গেরান ও অ্যালবার্ট ক্যালমেট। ‘নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ (এনওয়াইআইটি)-র বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, এই ভ্যাকসিনের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে করোনাভাইরাসের।

যুক্তরাষ্ট্রের এনওয়াইআইটি-র বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক গঞ্জালো ওতাজ়ুও একই কথা বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করে দেখেছি, যে সব দেশে শিশু জন্মের পরে যক্ষ্মার টিকা দেয়ার ব্যবস্থা নেই, সেই সব দেশে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেশি। যেমন ইতালি, নেদারল্যান্ডস, আমেরিকা।’

মেলিন্ডা ওয়েনার মোয়ার জানিয়েছেন, এই গবেষণার চূড়ান্ত ফল পাওয়া যাবে আরও কয়েক মাস পর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত