প্রায় তিন সপ্তাহ পর মিডিয়ার সামনে এলেন উত্তর কোরিয়ার চেয়ারম্যান কিম জং উন। বিশ^ রাজনীতিতে কিম এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন যে, তার অনুপস্থিতি নিয়ে নামিদামি মিডিয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও কথা বলতে হয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল কেন কিম জাতির পিতার জন্মদিন উৎসবে অংশগ্রহণ করেননি, এ নিয়েই শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা। উত্তর কোরীয় এই নেতার অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং তাতে তিনি মারা গেছেন এমন সংবাদও সিএনএনের মতো মিডিয়ায় প্রকাশ হতে দেখা গেছে। এমন অবস্থায় প্রশ্নটা স্বাভাবিক, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন কিম জং উন?
উত্তর কোরিয়ার সামগ্রিক বিষয় এতটাই গুপ্ত রাখা হয় যে, দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির খবরও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা হিসেবে সংরক্ষিত হয়। দেশটির কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকদেরও নিজেদের মিডিয়া থেকে জানতে হয় কী ঘটতে চলেছে দেশে। ১১ এপ্রিল পার্টির সভায় শেষ দেখা গিয়েছিল কিমকে। এর চার দিন পরেই জাতির পিতার জন্মদিন, যা উত্তর কোরিয়ার ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু ওই দিন কিমকে অনুপস্থিত দেখে সন্দেহ ভিড় করতে শুরু করে মিডিয়ায়। সিএনএন এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলে, ‘ওয়াশিংটন গোয়েন্দাদের মারফত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অস্ত্রোপচারের পর কিমকে খুব বিপদের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।’ জাপানের মিডিয়ায় তো সরাসরি বলা হয়, ‘কিম কোমায় আছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি, কোরীয় উপদ্বীপের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক, দক্ষিণ চীন সাগরের ক্ষমতার প্রশ্নের মতো বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ইস্যু একা কিমের ওপর নির্ভর করছে। কিমের মৃত্যু হলে একসঙ্গে অনেকগুলো বিষয় ঝুঁকির মধ্যে পড়বে, তাই পশ্চিমা মিডিয়াগুলো শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ কিমের উত্তরাধিকারী হিসেবে যদি তার বোন ক্ষমতায় বসেন, তবে তার সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করতে অনেকটা সময় লাগত। আর কিমের বোন ভূ-রাজনীতিতে কেমন কট্টর বা উদার, সেই বিবেচনার জন্যও অনেকটা কালক্ষেপণ হতো। ফলে এই মুহূর্তে কিম অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
সিউলের অধ্যাপক লিফ এরিক এসলির মতে, ‘কিমের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ইতিহাস ও উত্তর কোরিয়ার শাসনকাঠামোর কারণে তার স্বাস্থ্যগত বিষয়টি কোরীয় উপদ্বীপ ও বৈদেশিক কূটনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
