ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ত্রাণের তালিকায় অন্তর্ভুক্তিতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ০১:২৪ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ত্রাণের তালিকা তৈরির সময় টাকা নিয়ে অন্তর্ভুক্তি করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

উপজেলার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুর রশিদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘবে বর্তমান সরকার বিশেষ খাদ্য সহায়তার কাজ করছে। সারা দেশের মতো তিন দিন আগ থেকে আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নে ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

প্রতিটি ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা এলাকার অসহায়, দুস্থ ও কর্মহীন মানুষের তালিকা তৈরির কাজ করছেন। তবে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুর রশিদ তালিকা তৈরির সময় আর্থিক সুবিধা আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ তালিকায় নিবন্ধিত মৎস্যজীবী, ভিজিডি ও ওএমএস কার্ডধারীদের অন্তর্ভুক্তি না করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

জুঁইদন্ডী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহিউদ্দিন রিটন,নজরুল ইসলাম, নুরুল হক, মফিজুর রহমান, আরজু বেগম, সখিনা খাতুনসহ বহু মানুষের অভিযোগ, ত্রাণের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ জনপ্রতি ২০ টাকা করে নিচ্ছেন ইউপি সদস্য আবদুর রশিদ। টাকা না দিলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিচ্ছেন না।

এছাড়া এর আগে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, ভিজিডি ও বিধবাসহ অন্যান্য কার্ডের জন্য খরচ বাবদ দেড় থেকে দুই হাজার টাকা করে নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ নিয়ে একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি সদস্য আবদুর রশিদ বলেন, তালিকা তৈরিতে কম্পিউটার ও ফটোকপি খরচের জন্য এ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান মানা করার পর আর টাকা নিচ্ছি না। যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি তারা চাইলে ফেরত দিয়ে দেব।

এ ব্যাপারে জুঁইদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান চৌধুরী খোকা বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের তালিকা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাধারণ ও নারী সদস্যরা সমন্বয় করে এ কাজ করছেন। তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ইউপি সদস্য আবদুর রশিদের টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আমি তাকে ফোন করে মানা করি। তালিকা তৈরিতে যদি খরচের প্রয়োজন হয়, তাও আমি দেব বলেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত