বিএনপির রাজনীতি করায় মেয়র হয়েও ত্রাণ বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আবু। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিএনপির বলে তাকে বাদ দিয়ে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।
অবশেষে বাধ্য হয়ে ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় ‘শৃঙ্খলা’ আনতে ও ‘বিতরণের’ অনিয়ম তদন্তে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন গত ছয় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা এই পৌর মেয়র। উপজেলা ত্রাণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির সিদ্ধান্তে পৌরসভায় ওয়ার্ডভিত্তিক ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
আবুল কালাম আবু বর্তমানে বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। গত ছয় বছর ধরে তিনি পৌরসভার মেয়র পদে রয়েছেন। এর আগে প্রায় ১২ বছর তিনি উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
অভিযোগ জানিয়ে এই পৌর মেয়র বলেন, উপজেলায় অষ্টম কিস্তিতে সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ এলেও আমাকে কোনো ত্রা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আমি অন্য দল করি। তাই আমাকে ইনসাল্ট করা হচ্ছে। এটা অবিচার। দীর্ঘদিন ধরেই আমি জনপ্রতিনিধি। অনেক সরকার, অনেক এমপি-মন্ত্রী গেছে। কিন্তু ত্রাণ বিতরণে এ রকম কেউ করেনি। আমি থাকতে আমাকে এড়িয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ জনগণ আমার কাছে জানতে চায়। কিন্তু আমাকে কিছু জানানো হয়নি। ইউএনওর সাথে আগে যোগাযোগ হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তিনি আমাকে এড়িয়ে যান।
এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসককে দেওয়া চিঠিতে তিনি লিখেছেন, সারা বাংলাদেশে সরকারি নির্দেশনা অনুসারে ইউএনও পৌরসভার জন্য বরাদ্দ ত্রাণ পৌর মেয়রকে বুঝিয়ে দেন। পৌর এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে এলাকার ত্রাণ পাওয়ার উপযুক্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করে মেয়র স্বাক্ষরিত ‘মাস্টার রোল’ (বরাদ্দ তালিকা) ইউএনও বরাবরে পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু বোয়ালখালী উপজেলার ইউএনও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে যোগসাজশে ত্রাণ বরাদ্দের ব্যবস্থাপনার স্তর লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের তালিকা অনুসারে ত্রাণ বিতরণ করছেন।
এ বিষয়ে বোয়ালখালীর ইউএনও আছিয়া খাতুন বলেন, উনি আমাকে বরাদ্দ না পাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেননি, আমার কাছে আবেদনও করেননি। ত্রাণ প্রয়োজন এমন লোকজনের তালিকা দিয়েছিলেন। এ সংক্রান্ত যে উপজেলা পর্যায়ের কমিটি আছে। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ অনেকেই আছেন। কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে পৌরসভার জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, এরকম কোনো অভিযোগ এখনো হাতে পাইনি। বিষয়টা এরকম না। মূলত ওয়ার্ড কাউন্সিলরাই মাঠ পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণ করেন, মেয়র তো আর করেন না। তবে পৌর মেয়র জানেন না, এটা বলাটা স্বাভাবিক নয়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে উনার জানার কথা। অভিযোগ হাতে পেলে দেখব।
