কালবৈশাখীর ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে স্কুলটি। শনিবার সন্ধ্যায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব নলুয়াবাগি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনসেডের ভবনটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যালয়টির ব্রেঞ্চ-চেয়ার, টেবিলসহ আসবাবপত্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এলাকার শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আলিম-উজ-জামান ১৯৯৭ সালে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর টিনসেডের বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।
আলিম উজ্জামানের বাবা মরহুম আব্দুল খালেক খলিফাসহ স্থানীয়রা এ জমি দান করেন।
এটি ২০১৩ সালের ১ জুলাই জাতীয়করণ করা হয়। ২০০৯ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আয়লার তাণ্ডবে প্রতিষ্ঠাকালীন বিদ্যালয় ভবনটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং সরকারি সামান্য অনুদানে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।
গত বছর বিদ্যালয়টিতে একটি পাকা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হলে টিনসেডের ভবনটি পার্শ্ববর্তী খালি জায়গায় স্থানান্তর করা হয়। তখন থেকেই এ ভবনে বিদ্যালয়টির পাঠদান চলছে।
করেনা প্রাদুর্ভাব ও রমজানের ছুটির কারণে বিদ্যালয়টি বন্ধ রয়েছে। খোলার পর শতাধিক ছোট শিশুদের কোথায় পাঠদান করা হবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্মরত ৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অরুণা জানান, বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা আলিম-উজ-জামান জানান, বিদ্যালয়টিতে একটি পাকা ভবন বরাদ্দ হলেও তা এখনও নির্মাণাধীন। সেটি ব্যবহার উপযোগী হতে আরও সময় লাগবে। পাঠদান সচল রাখার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন।
গলাচিপা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মীর রেজাউল ইসলাম জানান, করোনার কারণে সার্বিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। আপাতত বিদ্যালয়টির কাগজপত্রাদি ও আসবাবপত্র সংরক্ষণের জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
