মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষা করে সালিশ বিচারের নামে ব্যাপক লোকসমাগম করেছেন সমাজপতিরা। স্থানীয় শমসেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির নেতাদের দুই পক্ষের মাঝে গত শনিবার দুপুরে ত্রাণ বিতরণের চাঁদা তোলা নিয়ে বিরোধে মারপিট হয়েছিল। এ ঘটনায় গত রবিবার দুইশর বেশি লোকের উপস্থিতিতে শমসেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সালিশি বৈঠক হয়। সেখানে মানা হয়নি করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের সরকারি কোনো নির্দেশনা। ওই সালিশি বৈঠকটি স্থানীয় পুলিশের জ্ঞাতসারেই হয়েছে বলে জানা গেছে। আর সালিশের মধ্যমণি ছিলেন শমসেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জুয়েল আহমদ।
শমসেরনগর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে জানান, গত শুক্রবার রাতে শমসেরনগর বণিক সমিতির সদস্যদের উপস্থিতিতে এক বৈঠক হয়। এতে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হান্নান ও সাধারণ সম্পাদক মোশাহিদ আলী সিদ্ধান্ত দেন যে তারা শনিবার সকাল থেকে চাঁদা তুলে কমপক্ষে ২ লাখ টাকার তহবিল গঠন করবেন। আর এ তহিবল থেকে অসহায় মানুষজনের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার সকালে চাঁদা তোলার কথা থাকলেও সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক আকস্মিক সময় পরিবর্তন করে বেলা ২টা থেকে চাঁদা তোলা শুরু করেন। এ নিয়ে সমিতির সহসভাপতি জিল্লুল হক ও প্রচার সম্পাদক সোহেল আহমদের সঙ্গে সভাপতি-সম্পাদকের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে শুরু হয় মারপিট। বিষয়টি নিয়ে শমসেরনগর বণিক সমিতির দুই পক্ষের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই উত্তেজনা নিরসনে পরদিন রবিবার রাত ৯টায় শমসেরনগর স্টেশন এলাকায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা ভঙ্গ করে দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে শুরু হয় সালিশ। তা চলে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা না মেনে লোকসমাগমের মাধ্যমে গভীর রাত পর্যন্ত সালিশ চললেও শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
লোকসমাগম করে সালিশের ব্যাপারে জানতে চাইলে শমসেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বণিক কল্যাণ সমিতির সালিশ বিচারে দুই শতাধিক লোকের উপস্থিতি ছিল না। বিচারে প্রায় ৪০-৪৫ জন উপস্থিত ছিলেন।’
