কেরানীগঞ্জে করোনার ঝুঁকিতে তিন শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী

আপডেট : ০৫ মে ২০২০, ০৬:২৬ এএম

করোনাভাইরাসে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন কেরানীগঞ্জের তিন শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পাড়া-মহল্লায় কোনো ধরনের মাস্ক, গ্লাভস ও ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) ছাড়াই তারা বাসাবাড়ি থেকে ময়লা অপসারণের কাজ করছেন।

একাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভিযোগ, চাহিদা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো সুরক্ষাসামগ্রী দেয়নি। করোনাভাইরাস খেটে খাওয়া এ মানুষগুলোর কাছে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এমনিতেই তিন বেলা খাবার জোগাড় করতে কষ্ট হয় তাদের, তার ওপর করোনা আতঙ্ক।

কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ১২ ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নের ৯টি করে ওয়ার্ড রয়েছে। পুরো কেরানীগঞ্জজুড়ে তিন শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন। ময়লা অপসারণের জন্য প্রতিটি ঘর থেকে মাসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত তারা আদায় করে থাকেন। তাদের সবকিছু দেখাশোনা করেন মো. সিদ্দিক নামে এক ঠিকাদার।

কিন্তু করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনা করে ঠিকাদার মো. সিদ্দিক কর্মীদের সুরক্ষাসামগ্রী দিতে পারেননি। ফলে কর্মীরা খালি হাতে ময়লা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এক বাসার ময়লা রাখার ঝুড়ি ও বালতির ছাপ পড়ছে আরেক বাসায়। তারা করোনা আক্রান্ত রোগীদের বাসায়ও ময়লা আনতে যাচ্ছেন আবার সেখান থেকে অন্য বাসায় যাচ্ছেন। এতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি বাসিন্দাদের মধ্যে সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ছে।

আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা এলাকায় ময়লা অপসারণকারী ভ্যানের চালক আবদুল হকের ব্যক্তিগত সুরক্ষা বলতে মুখে কাপড়ের মাস্ক। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া আমাদের রক্ষার কেউ নেই। একটি মাস্ক কিনতে লাগে ৩০ টাকা ও গ্লাভস কিনতে ২০ টাকা। প্রতিদিন এ বাড়তি টাকা কোথায় পাব? খাবারের টাকাই তো ঠিকমতো জোগাড় করতে পারি না।’

মডেল টাউন এলাকার বাবু বলেন, ‘আমার কোনো নিরাপত্তা নেই। আমার মাধ্যমে অন্যরা আক্রান্ত হতে পারে, সেটি কেউ বুঝতে চায় না। কিছুদিন আগে এক জোড়া হাতমোজা দেওয়া হয়, চার দিনেই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন খালি হাতেই সব কাজ করছি। কী আর করা, পেটের দায়ে তো কাজ করতেই হবে।’

চিকিৎসক ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিরা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এ করোনা নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের করোনা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কেরানীগঞ্জে যেভাবে বাড়ছে করোনা রোগী তারা তো আক্রান্ত হবেই। তাদের পাশাপাশি আশপাশের অন্যরাও আক্রান্ত হবে।

ঠিকাদার মো. সিদ্দিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে প্রতি মাসে বাড়ি বাড়ি থেকে যে বিল কালেকশন করি তা আটকে গেছে। টাকা কালেকশন করতে না পারায় কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী কিনে দিতে পারিনি। তবে ওদের একটি করে মাস্ক আর গ্লাভস কিনে দিয়েছিলাম। এ ছাড়া এই দুর্দিনে ৩০০ জন কর্মীর খরচ দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঠিকাদাররা আরেকটু আন্তরিকতার সঙ্গে দেখলেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টা নিশ্চিত করা যায়। অথবা বিষয়টি নিয়ে তারা যদি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে তাহলে ন্যূনতম একটা ব্যবস্থা অবশ্যই হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত