আর কিছুদিন পরেই আসছে খুশির ঈদ। কিন্তু হাসি নেই চাঁদপুরের ব্যবসায়ীদের মুখে। এই সময়টাতে ক্রেতাদের সামলাতে ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও রাজ্যের কালো মেঘ জমেছে ব্যবসায়ীদের মুখে।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে টানা লকডাউনে বন্ধ রয়েছে চাঁদপুরের বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। আর এতে ক্ষতির মুখে পড়ে দেউলিয়া হওয়ার পথে ক্ষুদ্র ও মাঝারি হাজারো ব্যবসায়ী। এক দিকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ভাড়া আর অন্যদিকে স্টাফদের বেতন বকেয়া পড়ছে দিন দিন। এতে করে ব্যবসায়ীরা হয়ে উঠছেন দিশেহারা। তাদের আশা, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কর্তৃপক্ষ নেবে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা।
গত ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে ব্যবসায়ীদের আকাক্সিক্ষত রমজান মাস। ঈদ সামনে রেখে বেচাকেনার জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন তারা। কিন্তু মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে চিত্রটা পুরো উল্টে গেছে। সাধারণত এ সময়ে শপিং সেন্টারগুলো ক্রেতাদের পদচারণে মুখরিত থাকলেও বর্তমানে তালা ঝুলছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। এ সময়ে ব্যবসা করে কিছু মুনাফা আয়ের স্বপ্ন পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। ঈদের খুশির বদলে হতাশা আর দুশ্চিন্তা জড়ো হয়েছে ব্যবসায়ীদের মুখে।
শহরের হাকিম প্লাজা, হকার্স মার্কেট, পূরবী মার্কেট, মীর শপিং কমপ্লেক্স, ফয়সাল শপিং সেন্টারগুলোতে ঘুরে দোকানের শাটারে তালা ঝুলতে দেখা যায়। যদিও কিছু দোকানি স্বল্প পরিষদের দোকান খুলে মালামাল বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। কেউ বা আবার দোকান খুলে ধুলাবালি ঝাড়ছেন।
শহরের হাকিম প্লাজার ব্যবসায়ী সায়িদ হোসেন পাপ্পু, শাহ আলী, পূরবী শপিং সেন্টারের ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন ইমু বলেন, লকডাউনের কারণে এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এতে করে আমরা এখন অনেক কঠিন সময় পার করছি। ঈদ সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের কিছু মুনাফা করার আশা থাকে। কিন্তু আমাদের আশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে।
চাঁদপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব মিলন বলেন, শুধু চাঁদপুর শহরেরই ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে ১ হাজার ২০০ বস্ত্রের দোকান। মধ্যবিত্ত এসব মানুষ কারও কাছে হাত পাততে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন।
