শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সাময়িক লকডাউন ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০ জন চিকিৎসক, ১৩ জন নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১১০ জনকে হোমকোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের তালিকা করে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।
মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. আবদুর রশিদ।
ডা. আবদুর রশিদ জানান, সোমবার শরীয়তপুরে দুই নারীসহ চারজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সের বাসার গৃহপরিচারিকা। তাই সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সাময়িক লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১১০ জনসহ তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হবে। রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত সাময়িক লকডাউন থাকবে হাসপাতালটি। রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানান তিনি।
তবে হাসপাতালে ভর্তিকৃত ১৩ জন রোগী নিয়মানুযায়ী চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকবে। জরুরী প্রয়োজনে সকলেই শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, গোসাইরহাটের আলাওলপুর ইউনিয়নের করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি যৌতুক মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী। তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে আলাওলপুর এলাকায় তার বাড়িতে ফিরলে, গত ১ মে তার নমুনা সংগ্রহ করে আইসিডিডিআরবিতে পাঠানো হয়। সোমবার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে তার। তখন তাকে বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয় । কিন্তু তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানান গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা সোহেব আলী।
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলমগীর হুসাইন বলেন, গোসাইরহাট উপজেলায় এই প্রথম দুইজনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে একজন গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সের বাসার গৃহপরিচারিকা। তাই হাসপাতালটিকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। অপরজনআলাওলপুর ইউনিয়নে এক ব্যক্তি। তাই তার বাড়িসহ আশেপাশের ৫টি বাড়ির লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
