করোনা সংকটের মধ্যে কড়াকড়ি শিথিল হওয়ায় খুব ধীরে ধীরে ইউরোপের শহরগুলোতে মানুষের জীবনের ছন্দ ফিরতে শুরু করেছে। খুলতে শুরু করেছে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ। মানুষের দেখা মিলছে সৈকতে-রাস্তায়। মহামারীর ধকলের মধ্যে ইউরোপের কোন দেশে কী অবস্থা তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে। প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে কয়েকটি দেশের বর্তমান হালহকিকত।
সাইপ্রাসে গত সোমবার থেকে খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট। টানা এক মাস বন্ধের পর চলতি মাসের ৪ তারিখে দেশটির প্রেসিডেন্ট ছোট ছোট দোকান খোলার অনুমোদন দেন। এছাড়া ২১ তারিখ থেকে সবাই আগের মতো রাস্তায় চলাফেরা করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। ইউরোপের আরেক দেশ পর্তুগালে ১৮ মার্চ থেকে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে সেটি উঠিয়ে নিতেই মুক্তির আনন্দে সবাই জড়ো হতে শুরু করেছে সৈকতে-পার্কে। মাস্ক পরে সবাই দোকান, সেলুন, এমনকি রেস্তোরাঁতেও যেতে পারছে। গত ৪ মে থেকে গ্রিসে সেলুনগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। বইয়ের দোকানসহ ছোট ছোট দোকান খুলেছে ছয় সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর। তবে রেস্তোরাঁ আর পাবগুলো খোলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে এই মাসের শেষ পর্যন্ত। দেশের মানুষ যেকোনো জায়গায় যেতে পারবে, তবে অবশ্যই মাস্ক পরে, বিশেষ করে গণপরিবহনে চলার সময়।
হাঙ্গেরির রাজধানীতে অন্যান্য শহরের তুলনায় বেশি কড়াকড়ি। অন্যান্য শহরে গণপরিবহন, জাদুঘর, ছোট দোকান খুললেও বুদাপেস্টে কিছু অফিস খুলেছে, গণপরিবহন চলছে, তবে কম। আর অবশ্যই সবাইকে মাস্ক পরে যেতে হচ্ছে অফিসে। গত ৪৮ দিন ধরে স্পেনের প্রতিটি শহর ছিল জনশূন্য। খাবার, ওষুধ, কুকুরকে নিয়ে বের হওয়া ছাড়া বের হওয়া ছিল একেবারে নিষিদ্ধ। এখন সামাজিক দূরত্বসহ অনেক বিধিনিষেধ বহাল থাকলেও রাস্তায় বের হতে পারছে মানুষ।
ইউরোপের মধ্যে ইতালির পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। লকডাউনে সবচেয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল এখানে। তবে ৪ মে থেকে সামাজিক দূরত্ব মেনে কাজে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।
অস্ট্রিয়ায় স্কুলের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষায় অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থী যাতে অংশ নিতে পারে সেই লক্ষ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু স্কুল। তবে ক্লাসে যেতে হবে মাস্ক পরে। এপ্রিলের ১৪ তারিখ থেকে ছোট ছোট দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। এছাড়া অসুস্থ স্বজনদের কেয়ার হোমে দেখতে যাওয়ার অনুমতি মিলেছে।
গত সোমবার থেকে জার্মানিতে কিছু ক্ষেত্রে পরিবেশ স্বাভাবিক হচ্ছে। কড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে সে দেশের মানুষ আবার চুল কাটার সেলুনে যেতে পারছে। আরও শিক্ষার্থী স্কুলে ফিরছে। রাজ্য অনুযায়ী আরও কিছু ‘স্বাধীনতা’ উপভোগ করতে পারছে মানুষ। করোনা সংক্রমণের হার অপেক্ষাকৃত কম থাকার ফলে পুবের স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য প্রকাশ্যে পাঁচজন পর্যন্ত মানুষের সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে।
