পৃথিবীর ‘সবচেয়ে কাছে’ অবস্থিত নতুন ব্ল্যাক হোলের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, আমাদের পৃথিবী থেকে এটি ‘মাত্র’ ১ হাজার আলোকবর্ষ দূরে!
গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ১ হাজার আলোকবর্ষ অনেক বড় দূরত্ব মনে হলেও মহাজাগতিক হিসাব বিবেচনায় এই দূরত্ব খুব বেশি নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ হাজার আলোকবর্ষ এতটাই কাছে যে দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে এই ব্ল্যাক হোলের পাশে দুলতে থাকা দুটি উজ্জ্বল তারকা শনাক্তের মাধ্যমে খালি চোখে ব্ল্যাক হোলটির অবস্থান বোঝা যায়। তবে সরাসরি ব্ল্যাক হোলটি দেখা যায় না।
অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স জার্নালে বলা হয়েছে, সূর্যের থেকে চারগুণ ভর বিশিষ্ট এই ব্ল্যাক হোল নক্ষত্রমণ্ডলের এইচআর ৬৮১৯ সিস্টেমে অবস্থিত।
গবেষকেরা ইউরোপীয় দক্ষিণ মানমন্দিরের চিলির লা সিলা অবজারভেটরি থেকে এমপিজি/ইএসও ২.২ মিটার টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই সিস্টেম শনাক্ত করেন।
গবেষকেরা তাদের এই প্রকল্পে ব্ল্যাক হোলের সন্ধান করতে নামেননি। তাদের ইচ্ছা ছিল ডাবল স্টার সিস্টেম নিয়ে গবেষণা করা।
এর আগে গত বছর এপ্রিলে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হন বিজ্ঞানীরা। সেটি ছিল ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন দূরে।
নক্ষত্র যখন জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে ফেলে, তখন তা সংকুচিত হতে থাকে। সাধারণ গ্যালাক্সিগুলোর মাঝে অবস্থানরত বড় বড় নক্ষত্র তাদের বিবর্তনের সর্বশেষ পরিণতিতে ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি করে। নক্ষত্রগুলো অনেক বেশি সংকুচিত হয়েই ব্ল্যাক হোলের জন্ম দেয়।
এই ব্ল্যাক হোলের ভেতরে ঢুকে নক্ষত্রসহ যাবতীয় মহাজাগতিক বস্তু অদৃশ্য হয়ে যায়। সেগুলো আসলে কোথায় যায় সেটিই রহস্যময়। এর মধ্যে দিয়ে পৃথিবীর মতো অন্য কোনো জায়গায় যাওয়া যায় কি না, সেটি নিয়েও আলোচনা আছে।
