কুমিল্লা জেলার বরুড়া পৌরসভার পুরান কাদবা গ্রামে মাদক সেবনে প্রতিবাদ করায় এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের তিনজনকে মাদক ব্যবসায়ীরা কুপিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ নৃশংস ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিচার দাবি করে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ মিয়া সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সোমবার দুপুরে বরুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীরা অ্যাম্বুলেন্সে করে আসে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাড়ির, নারী পুরুষসহ সকলের উপর হামলা চালায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ী রায়হান গং বরুড়া পৌরসভার পুরান কাদবাসহ বরুড়া উপজেলার চুরি, ছিনতাই ও মাদক বিক্রির সিন্ডিকেট চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা করোনার মতো মহামারীর মধ্যেও নিয়মিত মাদক সেবন করে আসছে। কিছুদিন পূর্বে রায়হান মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ মিয়ার ছেলে নাসিরের জমির সবজি ক্ষেতে একটি মাচার উপর বসে মাদক সেবন করতে দেখে তাকে বাধা দেন সাকিব ও রাকিব। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়হানের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তারা এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় মাদক ব্যবসায়ীরা তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয়।
শনিবার মধ্যরাতে সন্ত্রাসীরা মুক্তিযোদ্ধা মন্তজ মিয়ার বাড়িতে হমলা করে। তারা কুমিল্লা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আহত নাসির উদ্দিন ও তার দুই ছেলেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তি না রেখে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠান। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মন্তাজ মিয়া বাদী হয়ে বরুড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে বরুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সত্যজিৎ বড়ুয়া জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা নিয়েছি। জড়িতদের আটক করা হবে।
