কেরানীগঞ্জে করোনা আক্রান্ত অর্ধেকই স্বাস্থ্যকর্মী-পুলিশ-র‍্যাব সদস্য

আপডেট : ১৩ মে ২০২০, ০২:১৮ পিএম

কেরানীগঞ্জে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশদের সংখ্যাই বেশি। এ পর্যন্ত কেরানীগঞ্জে করোনা শনাক্তদের অর্ধেকই স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য।

এছাড়া কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনারও (ভূমি, দক্ষিণ) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

জানা যায়, কেরানীগঞ্জে ১২ মে পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৩৯ জন। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে অর্ধ শতাধিক এবং পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য রয়েছে ১০৮ জন।

করোনায় আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৬ জন ডাক্তার, নার্স ও স্টাফ রয়েছেন, জিনজিরার সাজেদা হাসপাতালের ১২ জন ডাক্তার, নার্স ও স্টাফ রয়েছে। এছাড়া কেরানীগঞ্জের আরও কয়েকটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর মোবারক হোসাইন জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে ও হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম আগের মতোই স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছে। তারপরও কেরানীগঞ্জবাসীর স্বাস্থ্যসেবার কথা ভেবে আমরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন না করে করোনা ঝুঁকি নিয়েও সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ৪২ জন সদস্য, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ৫ জন সদস্য, কেরানীগঞ্জ সার্কেল অফিসের একজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

এছাড়া র‌্যাব -১০ কেরানীগঞ্জ ক্যাম্পের ৫৯ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠানো, লকডাউন নিশ্চিত করা, ত্রাণ বিতরণ, চেকপোস্টে ডিউটি করা ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নানা কার্যক্রমের জন্য পুলিশ সদস্যদের সরাসরি জনসাধারণ এবং আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে আসতে হয়েছে। ফলে নিজেদের মধ্যেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ও সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে জীবনের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। সাধারণ মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, দেশ ও জনগণের প্রতি ভালোবাসা থেকেই পুলিশ সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে।  আক্রান্তদের ইতিমধ্যে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা এখনো আগের মতোই মডেল থানাবাসীকে স্বাভাবিক সেবা দিয়ে যাচ্ছি।  সব কার্যক্রম আগের মতোই চলছে। আইনের সেবা নিশ্চিত করতে ইন সা আল্লাহ আমরা জনগণের পাশে আছি।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দেব নাথ বলেন, করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে আক্রান্ত হয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাছাড়া লকডাউন নিশ্চিতসহ ত্রাণ বিতরণ ও অন্যান্য সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। তারা যেহেতু সবাই একই ব্যারাকে থাকে, তাই কয়েকজন আক্রান্ত হলে তাদের থেকে সবার মধ্যে হয়তো ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু তারপরেও সচেতন হচ্ছে না কেরানীগঞ্জের জনগণ। তাদের সচেতন করতে গিয়ে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছে। করোনায় সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে বড় বিষয় নিজেদের সচেতন হওয়া। আগেও বলেছি এখনও বলছি করোনা সংক্রমণ রোধে সবাই দয়া করে সচেতন হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত