চলে গেলেন তিস্তাপারের রূপকার দেবেশ রায়

আপডেট : ১৫ মে ২০২০, ০৭:৫৫ এএম

চলে গেলেন তিস্তাপারের বৃত্তান্তের রূপকার প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক দেবেশ রায়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের তেঘরিয়া অঞ্চলের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিনের খবরে বলা হয়েছে, ভারতীয় সময় রাত ১০টা ৫০ মিনিটের পশ্চিমবঙ্গের তেঘরিয়া অঞ্চলের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

তিস্তাপারের বৃত্তান্ত, তিস্তাপুরাণের মতো আখ্যানের এই স্রষ্টার চলে যাওয়ার খবর দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কবি শামীম রেজা।

নিউজ এইটিন বাংলার খবরে বলা হয়েছে, বুধবার তাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তেঘরিয়া অঞ্চলের ঊমা নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। গতকাল অবস্থা সংকটজনক হলে তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন এই সাহিত্যিক। ভার্টিগোজনিত সমস্যার কারণে শারীরিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন তিনি। বুধবার ডিহাইড্রেশনজনিত সমস্যা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।

দেবেশ রায়ের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর পাবনা জেলার বাগমারা গ্রামে। দেশভাগের আগে ১৯৪৩ সালে তিনি পরিবারের সঙ্গে চলে যান ভারতের জলপাইগুড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই জড়িয়ে পড়েন প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে। রাজনীতির সূত্রেই প্রান্তিক মানুষের জীবনের খুব কাছাকাছি গিয়েছেন তিনি। তার লেখায় ফুটে উঠেছে সেই চিত্র। ‘আহ্নিক গতি ও মাঝখানের দরজা’, ‘দুপুর’, ‘পা’, ‘কলকাতা ও গোপাল’, ‘পশ্চাৎভূমি’, ‘ইচ্ছামতী’, ‘নিরস্ত্রীকরণ কেন’, ও ‘উদ্বাস্তু’  এই আটটি গল্প নিয়ে দেবেশ রায়ের প্রথম বই বেরিয়েছিল। ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি এক দশক পরিচয় পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তার প্রথম উপন্যাস যযাতি। ১৯৯০ সালে তার তিস্তাপারের বৃত্তান্ত পায় সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মানুষ খুন করে কেন’, ‘মফস্বলী বৃত্তান্ত’, ‘সময় অসময়ের বৃত্তান্ত’, ‘লগন গান্ধার’, ‘তিস্তাপুরাণ’ ও ‘বরিশালের যোগেন মণ্ডল’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত