আজ থেকে আরোপ হতে পারে পেনাল রেন্ট

স্টোর রেন্ট মওকুফের সময় বাড়ানোর বিপক্ষে চট্টগ্রাম বন্দর

আপডেট : ১৭ মে ২০২০, ০২:১৭ এএম

চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্যের কন্টেইনারে শতভাগ রেন্ট মওকুফের তৃতীয় দফায় বাড়ানো সময়সীমা গতকাল শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আবারও সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। তবে নৌ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন করে সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা না এলে আজ রবিবার থেকে চারগুণ হারে পেনাল রেন্ট আরোপ করতে পারে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্মকর্তাদের কথায় এমন আভাস মিলেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বন্দরের বিরাট অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির পরও করোনা পরিস্থিতিতে কন্টেইনার খালাস নিতে দফায় দফায় বন্দরের স্টোর রেন্ট মওকুফের সুযোগ দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু এ সুযোগ তারা ব্যবহার করেননি। ফলে প্রায় ২৫ হাজার টিইইউস কন্টেইনার অফডকে পাঠানোর পরও  ৪৪ হাজার টিইইউস কন্টেইনার পড়ে আছে বন্দর ইয়ার্ডে। এখন গার্মেন্টস কারখানা, গোডাউন খুলেছে। আমদানি পণ্য রাখার কোনো সমস্যা নেই। তারপরও তারা বন্দরে কন্টেইনারগুলো ফেলে রেখেছেন। স্টোর রেন্ট মওকুফের সময়সীমা আর না বাড়ানোর পক্ষে আমি। এরপরও মন্ত্রণালয় সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দিলে তখন বাড়ানো হবে।

কভিড-১৯ সংক্রমণরোধে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর গত ২৬ মার্চ থেকে বন্দরে পণ্য ডেলিভারি মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে বন্দরে নজিরবিহীন কন্টেইনার জট সৃষ্টি হয়। প্রায় অচল হয়ে পড়ে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের কন্টেইনার ডেলিভারিতে উদ্বুদ্ধ করতে শতভাগ স্টোর রেন্ট মওকুফের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ীদের অনুরোধে তিন দফায় ৫১ দিন বাড়ানো হয় এর সময়সীমা। গতকাল এ সময়সীমা শেষ হয়েছে।

বন্দর সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে রেফার কন্টেইনারের ওপর ১৭ মে থেকে চারগুণ হারে পেনাল রেন্ট আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে মন্ত্রণালয় থেকে রেন্ট মওকুফের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না এলে অন্যান্য কন্টেইনারের ওপরও একই হারে দ- আরোপ হতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার রাখার ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউস। কিন্তু এ ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ার কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)  নির্ধারিত ৩৮ আইটেম ছাড়াও সব ধরনের পণ্য অফডকে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর প্রায় ২৫ হাজার কন্টেইনার অফডকে পাঠানো হয়। কিন্তু তারপরও বন্দরের জট পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ৩০ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়। সে হিসেবে বন্দরে কন্টেইনার থাকা উচিত ৩৫ হাজার টিইইউসের মতো। কিন্তু গতকাল শনিবারও সেখানে কন্টেইনার ছিল ৪৩ হাজার ৬৫০ টিইইউস।

বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেড় মাসের বেশি দেশে ছুটি চলছে। এর মধ্যে পোশাক খাত খুলে দেওয়া হলেও নানা কারণে এখনো ৪০ শতাংশ কারখানা বন্ধ। এরপরও প্রতিদিন আরএমজি খাতে বন্দর থেকে ৩০০-৪০০ টিইইউস কন্টেইনার ডেলিভারি হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতেই বন্দরের স্টোর রেন্ট মওকুফের সময়সীমা বাড়ানো উচিত। তাই বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আমরা চলমান লকডাউন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্টোর রেন্ট মওকুফের আবেদন জানিয়েছি। আশা করি বিষয়টি সরকার ও বন্দর বিবেচনা করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত