হতদরিদ্রদের জন্য নগদ সহায়তা কর্মসূচিতে বিত্তশালীদের নাম আসায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এন-৯৫ মাস্ক দুর্নীতির ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। কিন্তু এতদিনেও তা প্রকাশ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, দুর্নীতিবাজরা কি প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও শক্তিশালী? গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এসব কথা বলেছে। সংস্থাটির ভাষ্য, করোনা সংকটে ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দিচ্ছে সরকার। কিন্তু এই কর্মসূচিতেও অনেক বিত্তশালী ও জনপ্রতিনিধিদের সচ্ছল স্বজনের নাম রয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। কর্মসূচিটি সাধুবাদ পেলেও তালিকা প্রণয়নে স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়ম, বিতরণে অদক্ষতা এবং সমন্বয়হীনতা পুরো কার্যক্রমকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে যাচ্ছে, যা কাম্য নয়। এ ঘটনায় জড়িত এবং এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ দুর্নীতিতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় টিআইবি।
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সংকটে সবচেয়ে বিপন্ন অবস্থায় আছে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী। তাদের সঙ্গে আছেন করোনা পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়া খেটে খাওয়া মানুষরা। এক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থে হতদরিদ্রদের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার জন্য সহায়তাপ্রাপ্ত সবার তালিকা ওয়েবসাইটসহ সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে অনিয়মে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
এন-৯৫ মাস্ক কেলেঙ্কারির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চরম ঝুঁকি নিয়ে সেবাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের মাস্ক দুর্নীতির এখনো সুরাহা হয়নি। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী প্রতিবেদনটি দেখার সুযোগই পাননি। কোনো পদক্ষেপও গৃহীত হয়নি, যা সত্যিই দুঃখজনক। ফলে প্রশ্ন উঠবে, যারা এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত, তাদের কি ক্ষমতাবানদের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে? যারা এই চক্রকে সুরক্ষা দিতে তৎপর, তারা কি প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও বেশি ক্ষমতাবান? মাস্ক কেলেঙ্কারিসহ করোনা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দুর্নীতি-অনিয়মের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলে সরকারকে হয়তো অনেক অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে হতো না।’
