মহামারীর রাজনীতিকরণ

আপডেট : ১৯ মে ২০২০, ০৩:৪২ এএম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রথম আফ্রিকান বংশোদ্ভূত প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেইসাস করোনাভাইরাস নিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছেন। চারপাশে সমালোচনা ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের মাঝে একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে ডব্লিউএইচওকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বন্দ্বই সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সোমবার ডব্লিউএইচওর বার্ষিক মূল অনুষ্ঠানের শুরু করেন, যাকে ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেমব্লি বলা হয়। চলমান মহামারীর কারণে এবারই প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল অ্যাসেমব্লি হচ্ছে। আগে স্বাভাবিক সময় এই অ্যাসেমব্লি টানা তিন সপ্তাহ ধরে চললেও এখন জরুরি অবস্থার মধ্যে এর সময়সীমা মাত্র দুই দিনে সীমিত করা হয়েছে।

বহুমুখী বাগ্বিত-ার মধ্যেও গেব্রেইসাসকে গতকাল বলতে শোনা যায়, ‘১৯৪৮ সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর এই ভার্চুয়াল অ্যাসেমব্লি হতে যাচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান।’ সংস্থাভুক্ত দেশগুলো এই অ্যাসেমব্লি থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে পরবতী বৈশ্বিক পদক্ষেপের করণীয় সম্পর্কে জানার অপেক্ষা করছে। কিন্তু এই অপেক্ষার আকাশে মেঘ হয়ে দেখা দিয়েছে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বান্দ্বিক অবস্থান। গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্নের হুমকি দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প গেব্রেইসাস ও ডব্লিউএইচওর সমালোচনা করে বলেছেন যে, সংস্থাটি চীনঘেঁষা।

গত মাসেই ট্রাম্প এক ঘোষণায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ওয়াশিংটনের তহবিল বন্ধ করে দেন। ওই ঘোষণার পর ডব্লিউএইচও বিশাল চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে করোনা মোকাবিলায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান সংস্থাটির প্রধান। গেব্রেইসাস সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ভাইরাসবিদ ল্যারি ব্রিলিয়্যান্ট এএফপিকে বলেন, ‘গ্রোবার্টেন্ডল্যান্ডের পর সম্ভবত তিনিই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবচেয়ে যোগ্য প্রধান। তিনি বেশ উদার, সৎ ও বিজ্ঞানভিত্তিক মানুষ।’

ট্রাম্পের গত মাসের সমালোচনার পর গেব্রেইসাস সতর্ক করে বলেছিলেন যে, ‘আপনি যদি আরও লাশভর্তি ব্যাগের সংখ্যা দেখতে না চান তাহলে মহামারী নিয়ে রাজনীতি করবেন না। আমার কিছু যায় আসে না। আমি একজন কৃষ্ণাঙ্গ বা একজন নিগ্রো হিসেবে গর্বিত।’ তবে তিনি সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে পড়েছেন তাইওয়ান ইস্যুতে। আর এই চাপ চীনের থেকে। ডব্লিউএইচওর আন্তর্জাতিক বডি থেকে তাইওয়ানকে বাদ দেওয়া হয়। কারণ তাইওয়ান নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এমনিতেই অস্বস্তিতে থাকে। তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও পরাশক্তিধর চীনের কারণে তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য দিচ্ছে না। ডব্লিউএইচওর বডি থেকে তাইওয়ানকে বাদ দেওয়ায় দেশটিতে গেব্রেইসাসের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ হয়েছে। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে এ নিয়ে।

ডব্লিউএইচওর এখন কুল রাখি না শ্যাম রাখি অবস্থা। ভাইরাসটি কোনো ল্যাবজাত নয়, এই কথা বলে চীনঘেঁষা হয়েছে ডব্লিউএইচও। আবার তাইওয়ানকে চীনা অঞ্চল হিসেবে ধরে বৃহত্তর চীনের মধ্যেই রাখার কারণেও সমালোচনার শিকার সংস্থাটি। বিশ্লেষকরা ডব্লিউএইচওর বর্তমান অবস্থাকে বিশ্বের পরাশক্তিধর দুই দেশের মধ্যকার রাজনীতির কূটচাল হিসেবে দেখছেন। তবে এই কূটচালের শিকার শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই হচ্ছে না, পাশাপাশি বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত প্রত্যেকে এর দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত