দিনাজপুর লিচুর জন্য বিখ্যাত। এ বছর জেলার লিচু বাগানগুলোতে ভালো ফলন হলেও বাজারে নেওয়া ও বিক্রি করা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সারা দেশে মানুষের দীর্ঘদিন কর্মহীনতা এবং গণপরিবহন বন্ধ থাকায় লিচুর ক্রেতা পাচ্ছেন না বাগান মালিক ও লিচু ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনাজপুর থেকে ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকায় লিচু নিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত ক্রেতার অভাব হতে পারে। বাধ্য হয়ে সস্তায় লিচু বিক্রি করতে হবে এবার। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লিচুর বাগানগুলো গাছে ফুল বা ফল আসার আগেও বিক্রি হয় আবার পরেও বিক্রি হয়। তবে এবার বিরূপ পরিস্থিতির কারণে অনেক বাগানই বিক্রি হয়নি। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় লিচুর চাষ হয়েছে ৬ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতেÑ গাছ আছে সাড়ে ৭ লক্ষাধিক। এ ছাড়া অনেক বাড়িতেই কম-বেশি লিচুগাছ আছে। চলতি মৌসুমে জেলায় লিচুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি। জেলায় লিচু চাষ, বাগান থেকে পাড়া ও পরিবহনে জড়িত আছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। বর্তমানে বাজারে উঠতে শুরু করেছে মাদ্রাজি জাতের লিচু। এ ছাড়া এখানে বোম্বাই, চায়না-১, ২ ও ৩ এবং বেদানা ও কাঁঠালি জাতের লিচু উৎপাদন হয়। সদর উপজেলার মাসিমপুর এলাকার বাগান মালিক রায়হান ইসলাম বলেন, ‘আগে ফলন আসার পর ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে ধরনা দিত। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে লিচুর প্রতি ব্যবসায়ীদের তেমন আগ্রহ নেই। যে বাগান গত বার ২ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলাম সেই বাগান এবার কেউ ১ লাখ টাকাও দাম করছে না। লিচু নিয়ে বেশ চিন্তায় আছি।’
দিনাজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তৌহিদুল ইকবাল বলেন, ‘এবার দিনাজপুরে লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আবাদও বেড়েছে। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের ঈদের পর লিচু পাড়ার পরামর্শ দিচ্ছি। তবে এবার করোনাভাইরাসের কারণে লিচুতে লোকসানেরও আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছি না।’
জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম বলেন, ‘আমরা শহরের গোর-এ শহীদ ময়দানে লিচুর খুচরা ও পাইকারি বাজারে এমনভাবে দোকান বসাব যাতে ক্রেতারা একমুখী পথে কেনাকাটা করে সোজা বের হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের জন্য হোটেল ভাড়া স্বাভাবিক রাখা, তাদের প্রত্যয়নপত্র দিয়ে অন্যত্র যাওয়া-আসা, কোথাও যাতে চাঁদাবাজি না হয় সেজন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে করে লিচুচাষিরা লোকসানের মুখে না পড়েন।’
