আমেরিকান স্টক এক্সচেঞ্জে আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিংস, বাইদু ইনকরপোরেশনের মতো কিছু চাইনিজ কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এ-সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়েছে। বিশ্বে দুই শীর্ষ অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ করোনার কারণে স্থবির থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপে আবার তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিলে বলা হয়েছে, বিদেশি কোম্পানিগুলোকে এখন থেকে নিরীক্ষা ও অন্যান্য আর্থিক বিধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মান অনুসরণ করতে হবে। এ ছাড়া এই আইন অনুসারে পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানি বিদেশি সরকারের মালিকানাধীন কি না, তা প্রকাশ করতে হবে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বিলটি সব বিদেশি কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য হলেও এটির মূল লক্ষ্য চীন। কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা বরাবরই বেইজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল নিউইয়র্কের পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় থাকলেও কমেছে তালিকাভুক্ত বাইদু, আলিবাবার মতো চীনা কোম্পানির শেয়ার দর।
বিলটির প্রবর্তক সিনেটর জন কেনেডি বলেন, ‘আমি কোনো নতুন শীতল যুদ্ধে নামতে চাই না। চীনকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে একই মানের আওতায় রাখা উচিত।’
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের ফলস্বরূপ এই ঘোষণা এলো। এ ছাড়া নাসডাক পুঁজিবাজারে গত বছর তালিকাভুক্ত হওয়া লাকিন কফি অ্যাকাউন্টিং কেলেঙ্কারির প্রভাবও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে অন্যতম সফল চীনা কোম্পানি লাকিন কফি।
চীন প্রাথমিক পর্যায়ে করোনার প্রাদুর্ভাবকে ভুলভাবে মোকাবিলা করেছে অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের। এ কারণেই করোনা এখন মহামারী আকারে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তাদের ধারণা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা গেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিও বিপর্যস্ত। এ ছাড়া লাকিন কফির কেলেঙ্কারির ঘটনায় কয়েক সপ্তাহ আগে তালিকাভুক্ত চীনা কোম্পানিগুলোকে তদন্তের অধীনে আনে যুক্তরাষ্ট্র।
সম্প্রতি লাকিন কফি নিজেদের অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফল প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, গত বছর তাদের কয়েক কোটি ডলারের বিক্রি ‘ভুয়া’ ছিল। গত বছরের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ প্রান্তিক পর্যন্ত গড়ে ৩১ কোটি ডলারের ‘ভুয়া’ বিক্রি হয়েছে; যা তাদের আনুমানিক বার্ষিক বিক্রির প্রায় ৪০ শতাংশ। এ ঘটনায় এই কফি চেইন কোম্পানি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে। সেই সঙ্গে লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৬ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
