বরিশালে ২৪ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট : ২২ মে ২০২০, ০৬:৫১ এএম

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় ২৪ হাজার ৪৮০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা ঘরবাড়ি ছাড়াও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ফসল, রবিশস্য, মাছের ঘের ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বিকেলে জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কৃষকদের কাছ থেকে ওই তথ্য পাওয়া গেছে।

বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবারের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ প্রদান শুরু করেছেন জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান। জেলার ১০ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ওই সহযোগিতা দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে জানা যায়, জেলায় ঘূর্ণিঝড়ে ২৪ হাজার ৪৮০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ১৬০টি টিনের ঘর সম্পূর্ণ, ১৬ হাজার ৩২০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দমকা ও ঝড়ো হাওয়ায় মাটিতে নুয়ে পড়েছে কিছু পাকা ধান। ক্ষেতের পাট, পেঁপে, পান, কাঁচামরিচ ও মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কাঁচা ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও মাছের ক্ষতি হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ে বরিশালের দু-একটি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে কিছু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল দুপুরের মধ্যে ওই সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষক আবদুল হক জানান, ঝড় ও পানিতে তার মুগডাল, পুঁইশাক, পাটক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এখন কীভাবে সামনের দিনগুলো চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, জেলায় ৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জেলার বাকেরগঞ্জের নলুয়া ও ভরপাশা এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে। এদিকে বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সরকারের সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। গতকাল সদর উপজেলায় টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যাদের মাছের ঘেরের ক্ষতি হয়েছে, তারাও ক্ষতিপূরণ পাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত