নীলফামারীতে কৃষকের সোনালি ধানে চিটা পড়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে বোরো আবাদ।
গত রবিবার জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ওই চিত্র। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় বিভিন্ন জাতের ধান আবাদ হয়েছে। একটি মাত্র জাত ব্রি ২৮ ধানে কিছু অংশে ওই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। অন্যান্য জাতের তুলনায় ওই জাতটি আবাদও হয়েছে কম।
জেলা সদরের পঞ্চপুকুর, ইটাখোলা, টুপামারী, রামনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিচ্ছিন্নভাবে ধান ক্ষেত মরে গেছে। এসব ক্ষেতে ধানের শীষে চিটা পড়েছে।
জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালীপাড়ার কৃষক লালবাবু রায় বলেন, ‘চার বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান আবাদ করেছি। ঠিকমতো পরিচর্যা করায় গাছের বৃদ্ধি ভালোই ছিল। কিন্তু শীষ বের হওয়ার পর থেকে ধানগাছ শুকিয়ে যেতে শুরু করে। গাছের সঙ্গে শীষ শুকিয়ে পরিণত হয় চিটায়। কীটনাশক ছিটিয়েও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, ‘২৮ জাতের বোরো ধান ব্লাস্ট রোগে সংবেদনশীল। এই ধানের বয়স ৩০ বছর হয়ে গেল। এ কারণে আমরা কৃষকদের ২৮ ধানের আবাদে নিরুৎসাহিত করে বিকল্প হিসেবে ৮২ ও ৮৭ জাতের বোরো ধান চাষে উৎসাহিত করছি। আর ব্রি ২৮ জাতের ধান চাষে ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। শীষ বের হওয়ার আগে দুবার বালাইনাশক ছিটানো প্রয়োজন, কৃষকরা সেটি করেন না। অনেক জায়গায় আমরা নিজেরা টাকা খরচ করে বালাইনাশক ছিটিয়েছি, ওইসব ধান ভালো আছে’।
