ঈদের ছুটিতে দিনাজপুর ও রংপুরে স্পিরিট খেয়ে অসুস্থ হয়ে ১৬ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে দিনাজপুরের বিরামপুরে স্বামী-স্ত্রীসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও তিনজন। এ ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় এক হোমিও চিকিৎসককে গ্রেপ্তার
করেছে। অন্যদিকে রংপুরের পীরগঞ্জ ও বদরগঞ্জে স্পিরিট পানে তিন দিনে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন
রয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। বিস্তারিত: দিনাজপুরের বিরামপুরে স্পিরিট পান করে স্বামী-স্ত্রীসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও তিনজন।
স্পিরিট পানে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন বিরামপুর পৌর শহরের হঠাৎপাড়া মহল্লার শফিকুল ইসলাম (৪০) ও তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা (৩২), শান্তিনগর মহল্লার আব্দুল মতিন (৬৫), মাহমুদপুর মহল্লার আজিজুল ইসলাম (৩৩), মহসীন আলী (৩৮) এবং ইসলামপাড়া মহল্লার অমৃত। গত বুধবার ভোরে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়। বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান হোসেন মেহেদী বলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তিরা অ্যালকোহল জাতীয় কোনো পানীয় পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
স্পিরিট পানে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ আব্দুল মান্নান নামে স্থানীয় এক হোমিও চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে।
রংপুরে স্পিরিট পানে ১০ জনের মৃত্যু : ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে স্পিরিট পান করে রংপুরে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত তিন দিনে জেলার পীরগঞ্জ ও বদরগঞ্জের বাসিন্দা এসব ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এছাড়াও অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। পীরগঞ্জের শানেরহাট এবং বদরগঞ্জের শ্যামপুরে স্পিরিট পানের এসব ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পীরগঞ্জের শানেরহাট ইউনিয়নে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের কোনো স্বজন মুখ না খুললেও স্পিরিট পানে এমনটা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
অন্যদিকে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরে স্পিরিট পান করে তিনজনের মৃত্যুর হয়েছে। তারা হলেন বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নুর ইসলাম (৩০) এবং রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের সরোয়ার হোসেন (৩১) ও মোস্তফা কামাল (৩০)। এদের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে সরোয়ার ও মোস্তফা কামাল এবং বুধবার সকালে নুর ইসলাম মারা যান। তিনজনই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
পীরগঞ্জের শানেরহাট ইউপির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মন্টু জানান, মঙ্গলবার সকালে শানেরহাট খোলাহাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৪৫), পাহাড়পুরের জাইদুল হক (৩৫) ও পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের চন্দন কুমারের (৩০) মৃত্যু হয়। এর আগের দিন সোমবার রাতে রায়তি সাদুল্লাপুরের দুলা মিয়া (৫২) এবং হরিরাম সাহাপুরের লাল মিয়া (৩০), নওশা (৫০) ও শানেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সেলিম সরকার মারা গেছেন।
পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেস চন্দ্র বলেন, ‘স্পিরিট পানে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জেলা পুলিশের কয়েকটি বিশেষ টিম এসব মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
