জামাইষষ্ঠীতে শুঁটকি ভর্তা-সর্ষে ইলিশ খাওয়া হলো না সৃজিতের

আপডেট : ২৯ মে ২০২০, ০৮:৪৫ এএম

রাফিয়াত রশীদ মিথিলাকে বিয়ের পর এই প্রথম জামাইষষ্ঠী সৃজিত মুখার্জির। কিন্তু করোনার লকডাউনের বাধায় ভেস্তে গেল সব পরিকল্পনা। কলকাতার নির্মাতার খাওয়া হলো না শাশুড়ির হাতের শুঁটকি ভর্তা-সর্ষে ইলিশ।

কলকাতার হিন্দু বাঙালিদের মাঝে অতি প্রচলিত জামাইষষ্ঠী ছিল বৃহস্পতিবার। ‘আমাদের যদিও ওভাবে জামাইষষ্ঠী বলে কিছু নেই’ উল্লেখ করেন পত্রিকা আনন্দবাজার পত্রিকায় এই নিয়ে লেখেন মিথিলা।

“প্ল্যান ছিল অনেক। হলো না কিছুই। আমি বাংলাদেশে আর সৃজিত ভারতে। মাঝখানে কাঁটা হয়ে রয়েছে লকডাউন। জন্মদিন, ঈদ আর আজ জামাইষষ্ঠী...দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল সবই। সৃজিত আর আমার এ বছর প্রথম জামাইষষ্ঠী। কথা ছিল আফ্রিকা থেকে শুটিং সেরে বাংলাদেশ আসবে ও। আমার জন্মদিন, ঈদ সব একসঙ্গে পালন করব সবাই মিলে। সে সব তো হয়ইনি। ভরসা ওই ভিডিও কল আর ফোন।

আমাদের যদিও ওভাবে জামাইষষ্ঠী বলে কিছু নেই, তবে সৃজিত এই মুহূর্তে এখানে থাকলে ওকে আম্মুর হাতের শুঁটকি মাছের ভর্তা, ইলিশভাপা আর কষা মাংস খাওয়াতাম। খেতে খুব ভালোবাসে। আর তো তা হলো না। তাই ওকে বলেছি, ‘এক কাজ কোরো, ওখানকার কোনো খাবারের দোকান থেকে তোমার পছন্দমতো খাবার কিনে খেও। মনে করো জামাই ষষ্ঠীর খাবার খাচ্ছ।’

তবে এটা ঠিক, ও আগে যতবার এ দেশে এসেছে, জামাই আদর কিন্তু বেশ ভালোভাবেই করা হয়েছে। বাহারি রান্নার পদ, ও যা যা ভালোবাসে তাই রেঁধেছে আমার বাড়ির লোকেরা। আমার মায়ের হাতের রান্না আবার ওর বড়ই প্রিয়। এ রকম বহুবার দেখেছি, ও খেতে শুরু করলে থামতেই চায় না। এমনিতেই আমাদের দাওয়াত মানেই দশ-পনেরো রকমের পদ হয়। কিন্তু সৃজিতকে কখনো খাওয়ার ব্যাপারে ক্লান্ত হতে দেখিনি। আমি বরং এখন বারণ করি, বলি একটু কম খাও। শরীরের দিকেও তো নজর রাখতে হবে। তবে আম্মুকে দেখেছি, ওকে খাইয়ে যা সুখ পায় তা যেন আর কিছুতে নেই।

আমাদের প্রথম জামাইষষ্ঠী তোলা থাকল পরেরবারের জন্য।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত