নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান মুকুল ও সাধারণ সম্পাদক নিলয় রায় বাধনের বিরুদ্ধে গণপূর্ত অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নড়াইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তর নড়াইল অফিসের প্রধান সহকারী হাবিবুর রহমানের দায়েরকৃত জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার (১ জুন) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান মুকুল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌলীর অফিসে প্রবেশ করে। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে করোনাভাইরাসের সাধারণ ছুটিতে যেসব কাজের চুক্তি হয়েছে তার কাগজপত্র চায় এবং উত্তেজিতভাবে কথা বলে।
এ সময় ওই দু’ছাত্রলীগ নেতাকে প্রধান সহকারী হাবিবুর রহমান তার কক্ষে ডেকে আনলে উত্তপ্তবাক্য বিনিময় ও গালিগালাজ করে।
একপর্যায়ে ওই দুই ছাত্র নেতা চেয়ার তুলে প্রধান সহকারীকে আঘাত করে। তিনি দ্রুত সরে গেলে অফিস সহকারীর টেবিল-চেয়ার, অফিসের টেলিফোন সেট, কলমদানি ভেঙে ফেলে এবং ফাইলপত্র তছনছ করে।
হাবিবুর রহমান বিশ্বাস আরও বলেন, তিনি মাথা সরিয়ে না নিলে তার মৃত্যু হতে পারতো। এ সময় একটি আঙুল কেটে গেছে। তারা বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা এবং হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজ বলেন, ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। প্রয়োজনে মামলা করা হবে।’
অভিযুক্ত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, নড়াইল গণপূর্ত বিভাগ করোনায় অফিস বন্ধ হবার পর ৪টি কাজের গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করিয়েছে এবং এসব কাজের জন্য অফিস ২০% ঘুষ নিয়েছে। আমরা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি আমাদের অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। আমরা কোনো ভাংচুর ও চাঁদা দাবি করিনি। এটা তাদের সাজানো নাটক। যদি কোনো ভাংচুর ও চাঁদা দাবি করি তাহলে সিসিটিভি দেখে প্রমাণ করা হোক। না হলে আমরা মানহানির মামলা করব।
সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, গণপূর্ত অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে সোমবার রাত ১০টার দিকে থানায় জিডি হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
