ট্রাম্পের কাকতাড়ুয়া এন্তিফা!

আপডেট : ০২ জুন ২০২০, ১০:৫২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কণ্ঠস্বর এন্তিফাকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদার মতো সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এন্তিফাকে। ট্রাম্পের সুর ধরেই হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রেইন এবং অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বারও এন্তিফাকে ‘উগ্র জঙ্গি’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

এন্তিফা মূলত ফ্যাসিবাদবিরোধী একটি গ্রুপ। ১৯৩০ সালে হিটলার ও নাৎসিদের বিরোধীকে এন্তিফা বলা হতো। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলো প্রচারণা চালাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক এন্তিফার টুইটবার্তায় বলা হয়, ‘বিশ্বব্যাপী ফ্যাসিবাদ, বর্ণবাদ, যৌন নিপীড়ন, ধর্মবিরোধ, ইসলামফোবিয়া ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা বিশ্বাস রাখি।’ তাদের নীতিমালার কারণেই শ্বেত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এন্তিফা। ২০০৭ সালে অরিগনের রোজ সিটিতে এন্তিফা একটি নিউ নাৎসিদের সংগীতের উৎসব বন্ধ করে দেয়।

এন্তিফার কৌশল মোটামুটি জনগণের মধ্যে থেকে কট্টর বামপন্থিঘেঁষা। বিক্ষোভ সংঘটিত করার ক্ষেত্রে এদের ব্যাপকতা বেশি। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকেই বামপন্থি দলগুলো ও এন্তিফার মতো ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠনগুলো সরকারের বিরুদ্ধে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ করার দিন এন্তিফার সদস্যরা মুখে কাদা মেখে, মুখোশ পরে ওয়াশিংটনের বেশ কিছু স্থানে জানালার কাচ ভাঙচুর ও একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ওই বছরেরই আগস্টে শার্লটসভিল ও ভার্জিনিয়াতে তারা শ্বেত আধিপত্যবাদ ও নিউ নাৎসিদের বিরুদ্ধে মিছিল করে। এ সময় বেশ কিছু ডানপন্থি দলের সমর্থকের সঙ্গে তাদের হাতাহাতিও হয়। পোর্টল্যান্ড, বার্কলে ও ক্যালিফোর্নিয়াতে এখনো এন্তিফা তাদের কার্যক্রম বেশ দাপটের সঙ্গেই চালিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের গবেষণা বিভাগের তথ্য অনুসারে, এন্তিফার কোনো প্রধান বা জাতীয় সংগঠন নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এন্তিফাকে ‘বিকেন্দ্রীভূত, স্বতন্ত্র, উগ্র, সমমনা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত গ্রুপ’ বলে মনে করে। এই গ্রুপের অধিকাংশই অহিংস। কিন্তু গ্রুপের কিছু সদস্য স্বপ্রণোদিতভাবে তাদের বিশ্বাসের পক্ষেই অপরাধ করতে পিছপা হয় না বলেও কংগ্রেসের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে বিভিন্ন শহরে যে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে সেখানে একাধিক গ্রুপ জড়িত। এই গ্রুপগুলোর মধ্যে ডানপন্থি-বামপন্থি অনেক গ্রুপই আছে। সিনেট গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর মার্কো রুবিও গত রবিবার বলেন, ‘সমাজের ডান ও বামপন্থি বহু গ্রুপ মিলিতভাবে বিক্ষোভ, আগুন-সন্ত্রাস ও লুটপাটে জড়িত।’ বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবারই প্রথম সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ক্ষেত্রে কোনো একটি নির্দিষ্ট গ্রুপকে দায়ী করতে পারছে না। এক্ষেত্রে ট্রাম্প এন্তিফাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নিজের দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন বলেও তারা মনে করেন।

এন্তিফা : দ্য অ্যান্টিফ্যাসিস্ট হ্যান্ডবুকের লেখক মার্ক ব্রে গত সোমবার বলেন, অনেক ঘটনায় নিশ্চিতভাবেই এন্তিফার সদস্যরা জড়িত। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ঘটনাকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক ফোর্স হিসেবেও তারা কাজ করে। বস্তুতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক নৈরাজ্যবাদীদের সংখ্যা যে খুব বেশি তা নয়। অথবা বলা ভালো, আল কায়েদা বা ইসলামিক স্টেটের মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নেই। গত ফেব্রুয়ারিতে এফবিআই প্রধান ক্রিস ডব্লিউরে কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, ইসলামিক স্টেটের সহমর্মীদের বিরুদ্ধে যেভাবে তদন্ত চালানো হয়, তেমনি ডানপন্থি শ্বেত আধিপত্যবাদীদের বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থে তদন্ত চালানো উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত