ফের ব্রেক্সিট চক্রে যুক্তরাজ্য

আপডেট : ০২ জুন ২০২০, ১০:৫৩ পিএম

ব্রেক্সিট থেকে এখনো মুক্তি পায়নি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাণিজ্য ও অমীমাংসিত অনেক ইস্যু নিয়ে চতুর্থ ধাপে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে লন্ডন ও ব্রাসেলস। চতুর্থ ধাপের আলোচনা শুরু করতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডের লিয়েনের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক হবে বলে জানিয়েছে এএফপি। আগামী জুনের এই অতি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ফলে উভয়পক্ষের রাজনৈতিক অচলাবস্থা, যা মূলত ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে সূচনা হয়েছে তা দূর হবে বলে আশা করছেন অনেকে। কিন্তু এ বিষয়ে আশাবাদী হতে চাইছেন না ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ার ও যুক্তরাজ্যের পক্ষের মধ্যস্থতাকারী ডেভিড ফ্রস্ট। তাদের মতে, ব্রেক্সিটের এখনো অনেক অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে, যা আলোচনার টেবিল থেকে রাজনীতিতে ঝড় তুলতে পারে।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে যুক্তরাজ্য এখন ব্রেক্সিটের পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সময়সীমা বাড়াতে চাইবে। ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে চূড়ান্ত অর্থে ইউরোপ ছাড়ার কথা রয়েছে যুক্তরাজ্যের। কিন্তু এর আগে যদি উভয়পক্ষের মধ্যে কোনো বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর না হয় তাহলে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে হলেও যুক্তরাজ্যকে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা উচিত। কিন্তু বাণিজ্য চুক্তি চাইলেও করা যাচ্ছে না। কারণ শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের পণ্য কেমন সুবিধা পাবে তা এখনো মীমাংসা করা হয়নি।

জার্মান একটি রেডিওকে মিশেল বার্নিয়ার বলেন, ‘আমি আশা করি যে যুক্তরাজ্যের প্রত্যাশা অনুসারে একটি পথ খুঁজে বের করতে পারব আমরা, যাতে যুক্তরাজ্য একক বাজার ব্যবস্থা থেকে বের হতে পারে সহজেই। এক্ষেত্রে চুক্তি হোক বা না হোক, নতুন বাজারে যুক্তরাজ্যের প্রবেশ নিশ্চিতে চেষ্টা করা হবে।’ অন্যদিকে দ্য সানডেকে সাক্ষাৎকারে ডেভিড ফ্রস্ট বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যদি কোনো বাণিজ্য চুক্তি না হয়, তার ফলাফল সবাইকে ভোগ করতে হবে। ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসের কারণে উভয়পক্ষকেই অনেক করুণ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।’ যুক্তরাজ্য নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে বাণিজ্য চুক্তি করার পক্ষে। আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধার পক্ষে। বাণিজ্য, জলভাগের মৎস্য, এভিয়েশন ও জ্বালানি ইস্যুতে উভয়পক্ষই ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার আলোচনার টেবিলে বসেছে, কিন্তু কোনো কার্যকর সমাধানে যেতে পারেনি। ইউরোপ মনে করছে, যুক্তরাজ্যের দাবি-দাওয়া অনেক বেশি আগ্রাসী। আর যুক্তরাজ্য মনে করছে, ইউরোপের দাবি-দাওয়া তাদের সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত