র‌্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্রুণ হত্যা, নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীর মামলা

আপডেট : ০৪ জুন ২০২০, ১০:৩৩ পিএম

র‍্যাব সদর দপ্তরে কর্মরত এএসপি নাজমুস সাকিবের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন তার স্ত্রী ইসরাত রহমান। 
এ বিষয়ে তিনি রমনা রমনা থানা পুলিশের কাছে মেইলে অভিযোগ দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে পুলিশ। 
ইসরাতের অভিযোগ, দ্বিতীয়বার গর্ভে কন্যা সন্তান আসার পর বেড়ে যায় নির্যাতনের মাত্রা। সহ্য করতে না পেরে অবশেষে মামলা করেন তিনি। 

ইসরাতের স্বামী সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে র‌্যাব সদর দপ্তরে কর্মরত। 

এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, তদন্ত করে পুলিশ এ বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা নিবে। 

ইসরাতের অভিযোগ, তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। ২০১৭ সালের মার্চে সাকিবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময় নানা অঙ্কের টাকা এনে দেওয়ার জন্য শারীরিক নির্যাতন করতে শুরু করেন স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বাড়ি দোতলা করার জন্য বারো লাখ টাকা দাবি করে না পেয়ে ইসরাতের ওপর বেড়ে যায় নির্যাতন। টাকা না পাওয়ায় তালাকের ভয় দেখিয়ে জোর করে গর্ভপাত করানো হয় ২০১৯ সালের জুলাইয়ে। এরপর নানাভাবে চলতে থাকে নির্যাতন। আবারো অন্তঃসত্ত্বা হন ইসরাত। অনাগত সন্তান মেয়ে হবে এই কারণে শ্বশুরবাড়ি থেকে আবারো ৫ লাখ টাকা দাবি করেন নাজমুস সাকিব। মে মাসের শুরু থেকে নির্যাতনের কারণে দফায় দফায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ইসরাতকে। তাকে হুমকিও দেওয়া হয়। অবশেষ আইনজীবীর মাধ্যমে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন তিনি। 

রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ইসরাত নারী নির্যাতন ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করা হবে। 
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে র‍্যাব সদর দপ্তরে কর্মরত এএসপি নাজমুস সাকিবের সঙ্গে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করেন। তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। 

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণামধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব চলছে। নাজমুস সাকিব তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চারটি জিডি করেছেন। আর ভ্রুণ হত্যার যে অভিযোগ, সেটা তার স্ত্রী স্বেচ্ছায় করেছেন। স্ত্রী ইসরাত এএসপি নাজমুস সাকিবকে মারধর করেছেন। 

একজন নারী তার এএসপি স্বামীকে মারধর করতে পারে কি না জানতে চাইলে এ র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, এ বিষিয়ে তিনি (সাকিব) আমাদের এ রকমই জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আগেও তিনি থানায় জিডি করেছেন। আর নামজুস সাকিব যেহেতু র‌্যাবে কর্মরত। আমরাও বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। পাশাপাশি যেহেতু থানায় মামলা হয়েছে পুলিশও বিষয়টি তদন্ত করবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত