করোনা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে চিকিৎসা খাতে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কোভিড-১৯ এবং নন কোভিড রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিতে গঠিত সার্ভেইলেন্স টিম কাজ শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সার্ভেইলেন্স টিমের আহ্বায়ক চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
তিনি জানান, সেবা নিশ্চিতে সার্ভেইলেন্স টিম ২০টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে চিঠি দিয়ে সেসব প্রতিষ্ঠানে দৈনিক কত রোগীর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তার তথ্য আমাদের জানাতে বলেছি। এছাড়া, চিকিৎসা সেবা মনিটরিং করতে এবং নিয়ন্ত্রণ আনতে ৩০ মে গঠিত সাত সদস্যের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে, তাতে বাদ পড়েছে বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, আমাদের টিম গঠন করা হয়েছে মানুষ যেন চিকিৎসা পায়, সেটা নিশ্চিত করার জন্য। এছাড়া যেসব হাসপাতালে অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে সীমাবদ্ধতায় রয়েছে তারা আমাদের লিখিতভাবে জানালে আমরা সেই অনুসারে সিদ্ধান্ত নিব। কিন্তু কোন ধরনের অজুহাত মানা হবে না। টিমও পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে সাত সদস্যের টিমে বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর পরিবর্তে কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খানকে।
প্রসঙ্গত, নানা ঘটনায় আলোচিত ফয়সাল ইকবালকে কমিটিতে রাখায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার একাধিক হাসপাতালে ঘুরে সেবা না পেয়ে রোগী মৃত্যুর অভিযোগও ওঠে বেশ কয়েকটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিকিৎসা না দেয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে ফয়সাল ইকবাল ও ক্লিনিক মালিক লিয়াকত আলীর মদদ রয়েছে অভিযোগ আছে ।
গত ২৭ মে দেশের সব সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে করোনা এবং অন্য সব ধরনের রোগীকে আলাদা ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দিতে নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এরপরও সেসব নির্দেশ অমান্য করে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, সার্ভেইলেন্স টিম চিঠি প্রদান করে ২০ টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে তা হলো- হাসপাতালে বা ক্লিনিকে কত রোগী দৈনিক সেবা নিতে এসেছেন, এর মধ্যে সাধারণ ও কোভিড-১৯ উপসর্গ আছে এমন রোগীর সংখ্যা, কতজন কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়া রোগী, কাউকে সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে কি না, দিলে সেটা কেন এবং হাসপাতালে মোট শয্যা সংখ্যা কত।
সার্ভেইলেন্স টিমের সদস্য সচিব চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এ বিষয়ে বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ আসা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে মৌখিকভাবে অনেকে অভিযোগ করেছেন সেবা না পাওয়ায়। আমরা সেসব সমস্যা সমাধানও করেছি।
