লঞ্চযাত্রায় গা ঘেঁষাঘেঁষি

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ০৬:৫৩ এএম

সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর লঞ্চ চলাচলের চারদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও স্বাস্থ্যবিধিতে পরিবর্তন আসেনি চাঁদপুর লঞ্চঘাটে। এই ঘাটের টার্মিনালে আসা যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য নেই কোনো থার্মোমিটার বা থার্মাল স্ক্যানার। ফলে সুস্থ-অসুস্থ সব যাত্রী এক সঙ্গে যাত্রা করছেন লঞ্চে করে। এতে করে অসুস্থ যাত্রীদের কাছ থেকে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারেন সুস্থ যাত্রীরাও।

এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে হাজার হাজার যাত্রী চাঁদপুরসহ পাশর্^বর্তী জেলা লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও শরীয়তপুরে যাওয়া-আসা করছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চাঁদপুর জেলায়। ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসে চাঁদপুর জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩৬ জন। তাছাড়া করোনার লক্ষণ নিয়ে মারা গেছেন ৪৩ জন। এরমধ্যে শুধুমাত্র গত বুধবারই করোনার লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে ৫ জন। এভাবে চলতে থাকলে করোনাভাইরাসের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে চাঁদপুরসহ অন্যান্য জেলায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার চাঁদপুর লঞ্চঘাটে এসে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের মতোই কোনো প্রকার সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে যাত্রী পরিবহন করে চলছে লঞ্চগুলো। সরকারের নির্দেশিত ৩ ফিট তো দূরের কথা এক ফিটও দূরত্ব বজায় রাখা হয় না। শুধুমাত্র গণমাধ্যম কর্মীদের দেখা পেলেই তৎপরতা দেখায় বন্দর ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের উপস্থিতির সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে অনেকটাই। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি লঞ্চগুলোতে। এই বিষয়টি নিয়ে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লঞ্চ টার্মিনালে প্রবেশমুখে এখনো পর্যন্ত তৈরি করা হয়নি জীবাণুনাশক টানেল। ব্যবস্থা করা হয়নি তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। ফলে বুঝার কোনো উপায় নেই কে সুস্থ বা অসুস্থ। এতে করে সুস্থ-অসুস্থ সব যাত্রীই যাত্রা করছেন একসঙ্গে। এতে করে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আরও তীব্র হচ্ছে।

লঞ্চের যাত্রীরা বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী লঞ্চে করে যাত্রা করছে। কিন্তু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জন্য কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেই এখানে। এতে করে অসুস্থ রোগীদের চিহ্নিত করে আলাদা করা যাচ্ছে না। এতে করে আমরা অজান্তেই কোনো করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসে যাত্রা করে নিজেদের মধ্যে ভাইরাস বহন করছি। যা পরবর্তী সময়ে আমাদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মাঝেও ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে এমভি আবে জমজম লঞ্চের মালিক প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার বলেন, আমরা যাত্রীদের দূরে দূরে বসার পরামর্শ দিলেও অনেক সময় তারা আমাদের কথা শুনেন না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা একসঙ্গে যাত্রা করে থাকেন। যাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি লঞ্চে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য থার্মাল স্ক্যানার রাখার কথা থাকলেও কোনো লঞ্চেই তা নেই।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আবুল বাশার মজুমদার বলেন, বন্দরে প্রবেশের জন্য থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহার করা আমাদের কাজ নয়। এগুলোর ব্যবস্থা স্থানীয় প্রশাসন করে থাকে। তাছাড়া আমাদের জীবাণুনাশক টানেল তৈরি করার কথা থাকলেও ঢাকা থেকে যন্ত্রপাতি না আসায় তা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় লঞ্চগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাইলে অনেক সময় লঞ্চমালিক পক্ষ লঞ্চ চালানো বন্ধ করার হুমকি দেয়। তাই যতটুকু সম্ভব যাত্রীদের ভালোভাবে যাত্রা করার ব্যবস্থা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত