মাসের পর মাস লকডাউনে থাকা দেশগুলো এখন সীমানা খুলছে ধীরে ধীরে। প্রথম দফায় তারা করোনা নিয়ন্ত্রণে সফলও হয়েছে। তবে তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে দেশে দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ ঠেকানো। পাশাপাশি নিয়মের বাড়াবাড়ি হলে ব্যবসায়িক বা আনন্দ-ভ্রমণ উভয়ের আগ্রহ হারাবেন ভ্রমণকারীরা। যার প্রভাব ফের পড়বে অর্থনীতিতে।
করোনাভাইরাস মহামারী আন্তর্জাতিক ভ্রমণে দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সম্পর্কটাকে বিষিয়ে তুলেছে। কিন্তু এখন ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সম্পর্ক আবার গড়ে উঠছে। তবে ভাইরাসের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রেখতে হচ্ছে সব দেশকেই।
এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া যেমন গত ১৫ মে কেবল নিজেদের মধ্যে সীমানা খুলে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড তাদের নিজস্ব ‘ট্রাভেল বাবল’-এর ভেতরে বাধাহীনভাবে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে, যেখানে ফিজি, ইসরায়েল ও কোস্টারিকাও যোগ দিতে চাচ্ছে। চীনে করপোরেট চার্টার্ড ফ্লাইট বাড়ছে। কভিড-১৯-এর পরীক্ষায় নেতিবাচক ফল আসার সনদ থাকলে সাইপ্রাসে পর্যটকরা ঢুকতে পারছেন।
নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক স্কট টাস্কার বলেন, করোনা বিমান ও পর্যটন শিল্পের জন্য একটা বড় ধাক্কা। এমন আগে কখনই দেখেনি বিশ্ব। তবে আমরা আবার চলার পথে ফিরে আসব, কিছুটা ভিন্নভাবে।
তিনি জানান, মাস্ক বাধ্যতামূলকভাবে পরা, তাপমাত্রা মাপা, কন্টাক্ট ট্রেসিং অ্যাপের ব্যবহার এবং সোয়াব টেস্ট করা ভ্রমণ যন্ত্রণাময় করে তুলবে। ফ্লাইট কম থাকায় যাত্রা হবে দীর্ঘ, যা যাত্রীদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে এর কিছু কিছু পদক্ষেপ নিতেই হবে। তার মতে, বিশ্বকে আবার উন্মুক্ত করার প্রথম ছোট পদক্ষেপগুলো শুরু হবে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার এবং সক্রিয় রোগীর সংখ্যা যেসব অঞ্চলে কম সেই এলাকায়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বেশিরভাগ ব্যস্ততম বিমানবন্দরে যাত্রী চলাচল ৯০ শতাংশ বা তার বেশি কমার পর এখন খানিকটা বাড়ছে। বিমানবন্দরের সব কর্মী এখন মাস্ক ও গ্লাভস পরে থাকছেন। দুবাইয়ের বিশাল বিমানবন্দরের আগত সব যাত্রীকে এখন থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে স্ক্যান করা হচ্ছে তাপমাত্রা মাপতে। ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রেও এখন এটি চালু হচ্ছে।এয়ারলাইনসগুলোও তাদের নিজস্ব রক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে। বিশ্বজুড়ে তারা ফ্লাইটে খাদ্য এবং পানীয় সেবা কমিয়ে ফেলছে। সবার জন্য মাস্ক পরাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চ-ঝুঁকির দেশগুলোতে ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে কী করা হবে তা নিয়েও কাজ চলছে।
