আজ বৈশ্বিক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। প্রতিদিন পৃথিবীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঠিক কতজন মানুষ মারা যাচ্ছে তার সঠিক হিসাব বলা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন মাধ্যম যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় বা ওয়ার্ল্ডোমিটারসহ অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন মৃত্যু ও আক্রান্তের তালিকা প্রকাশ করছে। কিন্তু এর একটি তালিকাও সম্পূর্ণ নয়। কারণ, করোনার বিস্তারের এই সময়ে সঠিক পরিসংখ্যান নেওয়ার মতো অবস্থাও নেই। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, করোনাভাইরাস নিয়ে প্রতিদিন বের হওয়া গুজবে ভীত হয়ে অনেক রোগীর মৃত্যু ঘটছে। গুজব আটকানো গেলে করোনায় আক্রান্ত অনেক ব্যক্তির মৃত্যু ঠেকানো যেত বলেও তারা মনে করেন। যেমন ধরা যাক এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন বলে জানানো হচ্ছে। বিগত কয়েক দিনে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের ইনসেনটিভ কেয়ারে রাখা যাচ্ছে না স্থান সংকুলানের কারণে। দেশটির অন্যতম শহর করাচিতে ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বাস। অথচ সেই তুলনায় আইসিইউতে শয্যাসংখ্যা খুব সীমিত। শহরটির প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, কিছু হাসপাতালে নতুন করে রোগী নেওয়ার কোনো জায়গা নেই। কিন্তু অন্যভাবে জানা যায় যে, হাসপাতালগুলোতে তখনো অনেক শয্যা ফাঁকা ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত এমন গুজব খুব সহজেই করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করে। করাচি ছাড়াও পাকিস্তানের পেশোয়ার ও কোয়েটা শহরেও একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে। শুধু পাকিস্তানেই নয়, করোনা আক্রান্ত প্রায় প্রতিটি দেশেই টিকা থেকে শুরু করে করোনার সংক্রমণ নিয়ে চলতি বিভিন্ন গুজবের বলি হচ্ছেন অনেকে। গুজবের কারণে অনেক রোগীই মানসিক জোর হারিয়ে ফেলছেন, ফলে তাদের পক্ষে মানসিক শক্তি দিয়ে ভাইরাসের মোকাবিলা করা সহজ হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক করাচির এক ডাক্তার বিবিসিকে জানান, ‘আমার সন্তান ফ্লুতে ও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইনি। কারণ সেখানে নিয়ে গেলেই জ্বর দেখেই ডাক্তাররা ওকে করোনার রোগী হিসেবে চিহ্নিত করবে। আর করোনা চিহ্নিত করার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ রুপি করে নিচ্ছে তারা।’ এছাড়া এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে যে, করোনায় আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসার নামে অনেক হাসপাতাল বিপুল অঙ্কের টাকা নিচ্ছে। মাত্র তিন দিন হাসপাতালে থাকায় ৮০ লাখ টাকা বিল করারও নজির আছে এই করোনার সময়ে
×
