টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার আদমপুর, কমলগঞ্জ ও ইসলামপুর এবং পতনউষার ইউনিয়নের প্রায় ১৫-২০টি গ্রাম। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে ওই এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট। অনেক বাড়িঘরে উঠেছে পানি। কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে একরের পর একর আউশ ক্ষেতসহ ফসলের মাঠ আর সবজিতলা। অনেক পুকুর ও ফিশারির মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
কমলগঞ্জে ৩ দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। এতে অনেক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে উজানে টানা বৃষ্টির কারণে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে উপজেলার আদমপুর, ইসলামপুর, পতনউষার ও কমলগঞ্জ ইউনিয়নে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে ওই চার ইউনিয়নের ১৫-২০টি গ্রামের ১০-১২শ একর ফসলের মাঠে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে; বিশেষ করে আউশের বীজতলা, আউশ ক্ষেতসহ সবজিতলা ২ থেকে ৩ ফুট পানিতে নিমজ্জিত। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
শমশেরনগরের কৃষক সিদ্দিকুর রহমান, পতনউষারের কৃষক আনোয়ার খান ও তবারক হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতায় এ দুটি ইউনিয়নসহ মুন্সীবাজার ইউপির কমপক্ষে ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত রয়েছে।
এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খরস্রোতা ধলাই নদীর পানি গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টায় বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধিন ফলে প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে কমলগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, পানি বিপৎসীমার ১৮ দশমিক ৮৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাধবপুর ইউপির শিমুলতলা এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
