কক্সবাজারে এবার ৩ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় লকডাউন

আপডেট : ০৮ জুন ২০২০, ০৫:৪২ এএম

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের আরও কয়েকটি এলাকা ‘রেড জোন’ ঘোষণা দিয়ে লকডাউন করেছে প্রশাসন। এলাকাগুলো হলো টেকনাফ পৌরসভা, চকরিয়া পৌর এলাকা ও ডুলাহাজারা ইউনিয়ন এবং উখিয়া উপজেলার রতœাপালং ইউনিয়নের কোটবাজার স্টেশনের আশপাশের তিনটি ওয়ার্ড। এর আগে কক্সবাজার পৌর এলাকাকে দেশের প্রথম ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে শনিবার সকাল থেকে লকডাউন করা হয়।

গতকাল রবিবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও জেলা করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির সমন্বয়ক মো. আশরাফুল আফসার বলেন, কক্সবাজার পৌর এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা দিয়ে শনিবার সকাল থেকে লকডাউন করার পাশাপাশি জেলার আরও কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে চকরিয়া পৌর এলাকা ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ২, ৩, ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড, টেকনাফের পৌর এলাকা এবং উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের কোটবাজার স্টেশন সংলগ্ন আশপাশের এলাকার ৩টি ওয়ার্ড।

তিনি বলেন, ‘রবিবার সকাল থেকে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকাকে নতুন করে ‘রেড জোন’ ঘোষণা দিয়ে লকডাউন করেছে প্রশাসন। আগামী ২১ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত এসব এলাকা লকডাউনের আওতায় থাকবে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশরাফ আরও বলেন, ‘লকডাউনের আওতায় থাকা এসব এলাকায় ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিকসহ সব ধরনের সভা-সমাবেশ বা গণজমায়েত বন্ধ থাকার পাশাপাশি কাঁচাবাজার, মুদি দোকান, মার্কেট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। বন্ধ থাকবে ব্যক্তিগত ও যেকোনো ধরনের গণপরিবহন। এ সময় মানুষকে ঘরে অবস্থানেরও নির্দেশনা রয়েছে।’

তিনি জানান, এ সময়ে শুধু ফার্মেসিসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন, কভিড-১৯ মোকাবিলার কাজে ব্যবহৃত গাড়ি চলাচল করতে পারবে। এছাড়া সপ্তাহের রবিবার ও বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে খোলা থাকবে কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানসহ নিত্যপণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। ‘রেড জোন’ ঘোষিত এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত তৎপর রয়েছে।’

কক্সবাজার জেলায় শনিবার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৯৬৪ জন। তাদের মধ্যে দেশে প্রথম ‘রেড জোন’ ঘোষিত কক্সবাজার পৌর এলাকায় রয়েছে ৩১৭ জন। জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছে ১৯ জন। তাদের মধ্যে কক্সবাজার পৌর এলাকার রয়েছে ১৩ জন।

দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজার পৌর এলাকায় বিধি লঙ্ঘন : লকডাউন শুরুর পর দ্বিতীয় দিনে গতকাল কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রথম দিনের তুলনায় বেশি সংখ্যক যানবাহন ও মানুষের চলাচল দেখা গেছে। খুলেছে বেশ কিছু দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি ফুটপাতে হকার বসতেও দেখা গেছে। তাছাড়াও রাস্তায় বের হওয়া মানুষদের দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাচল করতে। তবে বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশরাফুল আফসার বলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশনা মতো রবিবার লকডাউনের কিছুটা শিথিলতা থাকায় রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল বেড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।’ লকডাউনের নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সোমবার থেকে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত