সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বেড়ে ৮৮ হাজার কোটি টাকা হচ্ছে

আপডেট : ০৮ জুন ২০২০, ০৬:৫৩ এএম

করোনার প্রভাবে বেকায়দায় আছে সর্বসাধারণ। এর মধ্যে অসহায় ও অতিদরিদ্রদের অবস্থা আরও খারাপ। এ জন্য আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এ হিসাবে অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় বর্তমানে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী খাতে ৭৬ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ ভাতা পান। আগামী অর্থবছরে এর আওতা বাড়িয়ে করা হবে ৯২ লাখ ৬০ হাজার। বর্তমান সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর থেকে সুদমুক্ত ঋণ বাবদ ৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আসন্ন বাজেটে এ বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরে গর্ভবতী নারী, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়, চা-শ্রমিক ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা ভাতা দেওয়া হয়। আসন্ন বাজেটে এর আওতা বাড়ানো হবে কিন্তু ভাতার পরিমাণ বাড়বে না বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৫৬ জন। তাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে করোনার কারণে আগামী ৬ মাস ১০ টাকা দরের চাল বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার টার্গেট রয়েছে। সব মিলিয়ে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে; যেন করোনার কারণে মানুষের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা লাঘব করা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতা ও ভাতা বাড়ানো। কিন্তু সেটা যেন প্রকৃত ব্যক্তিরা পায়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। কঠোর মনিটরিংয়ের জন্য সবার্ধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত