দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের সব অফিশিয়াল হটলাইন ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। মঙ্গলবার এ ঘোষণা আসে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার থেকে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরে পিয়ংইয়ং বিরোধী লিফলেট বিতরণের জের ধরে এ সিদ্ধান্ত নিল দেশটি। এর আগে বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সমালোচনা করে কড়া ভাষায় বেশ কয়েকটি বিবৃতি দেয় উত্তর কোরিয়া। দেশটি এবার হটলাইনগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় কোরিয়া উপদ্বীপে ফের উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
পিয়ংইয়ং বিরোধী দক্ষিণ কোরিয়ার লিফলেট বিতরণকে নিজেদের নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখছে উত্তর কোরিয়া কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিশাল র্যালি আয়োজনও করেছে তারা।
উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার শান্তি প্রক্রিয়া এক বছরের বেশি সময় ধরে স্থবির হয়ে আছে। ২০১৮ সালে দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের সঙ্গে উত্তরের সর্বোচ্চ নেতা তিনবার বৈঠকে বসলেও এরপর তারা আর কোনো আলোচনায় বসেনি।
উত্তেজনা নিরসনে উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত শহর কায়েসং-এ লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করে দেশ দুটি। এই অফিসের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করত উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া।
ওই কার্যালয়টিও বন্ধ করে দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। সেই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট অফিসের লাইনটিও কেটে দেওয়া হচ্ছে। তাতে দেশ দুটির মধ্যে অফিশিয়াল যোগাযোগের আর কোনো উপায় থাকল না।
যোগাযোগ ছিন্নের উত্তর কোরিয়ার এই সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর কমই প্রভাব পড়বে। কেননা দেশ দুটির মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে এমনিতেও যোগাযোগ নেই।
সিঙ্গাপুরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জন উনের ঐতিহাসিক বৈঠকের দুই বছর পূর্তির তিন দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে হটলাইন বিচ্ছিন্নের ঘোষণা দিল উত্তর কোরিয়া কর্তৃপক্ষ।
পিয়ংইয়ং বলেছে, তারা সব ধরনের যোগাযোগ সংযোগ ও লিয়াজোঁ লাইন ‘পুরোপুরি’ কেটে দেবে। তা মঙ্গলবার দুপুর থেকে কার্যকরী হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।
কিম জন উনের বোন ও অন্যতম উপদেষ্টা কিম ইয়ো জং ও ওয়ার্কাস পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান কিম ইয়োং চোল এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানিয়েছে কেসিএনএ’র খবরে বলা হয়েছে।
গত সপ্তাহে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়া যদি উত্তর কোরিয়ায় লিফলেট পাঠানো ঠেকাতে ব্যর্থ হয় তাহলে কার্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়া হবে। দেশত্যাগ করা উত্তর কোরীয়রা এসব লিফলেট ছড়াচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালের সমঝোতা লঙ্ঘিত হয়েছে।
