ট্রেনের নাম নিয়ে অমিত শাহ-মমতার তুমুল তর্ক

আপডেট : ১১ জুন ২০২০, ০৯:০১ এএম

একটি ট্রেনকে নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মধ্যে বিতর্ক জমে উঠেছে। ‘শ্রমিক স্পেশাল’কে ‘করোনা এক্সপ্রেস’ উল্লেখ করায় এ কাণ্ড। এ বিষয়ে অমিত শাহ আক্রমণ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুখ খোলেন মমতা।

তিনি দাবি করলেন, শ্রমিকদের নিয়ে ফেরা ট্রেনকে ‘করোনা এক্সপ্রেস’ বলেননি। লোকে যা বলছে, সেটাই তিনি বলেছিলেন। বিজেপি-সহ বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘অবিবেচনামূলক দুরভিসন্ধি’র অভিযোগ আনেন মমতা।

এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়- বিজেপির ‘ভার্চুয়াল সভা’ থেকে মঙ্গলবার অমিত বলেন, ‘‘অভিবাসী শ্রমিকেরা তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ঘরে ফিরতে চেয়েছিলেন। আমরা সেই ট্রেনের নাম দিয়েছি ‘শ্রমিক স্পেশাল’। আর মমতা দিদি নাম দিয়েছেন ‘করোনা এক্সপ্রেস’। ওই করোনা এক্সপ্রেসই বাংলা থেকে তৃণমূলের ‘এগ্জিট এক্সপ্রেস’ হবে! আপনি বাঙালি শ্রমিকদের ক্ষতে যে নুন দিয়েছেন, তা তারা ভুলবেন না!’’

এই সূত্রেই বুধবার মমতা বলেন, ‘‘ট্রেন সার্ভিসটা বন্ধ আছে একটাই কারণে, একসঙ্গে অনেক লোক চেপে গেলে সেখানে ছোঁয়াছুঁয়িতে করোনা বাড়তে পারে। যার জন্যই আমরা বলছিলাম একসঙ্গে হাজার হাজার লোক না পাঠাতে। আপনারা ভুল ব্যাখ্যা করেছেন। আমি কিন্তু কোনও দিন ‘করোনা এক্সপ্রেস’ বলিনি, পাবলিক বলেছে। আমি সেই কথাটা বলেছি।’’ কেন লোকে এমন বলছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি, ‘‘বিজেপির বড্ড মাথাব্যথা! শ্রমিকদের জন্য কোন সহানুভূতির কাজটা করেছেন? লকডাউনের সময় কেন্দ্র বলেছিল, চট-চা শিল্প-সহ বেসরকারি ক্ষেত্রে ছুটি থাকলেও শ্রমিকদের মাইনে দেবে। নিজেরা বলে পরে তারাই প্রতারিত করেছে শ্রমিক সমাজকে। যারা দিন আনে দিন খায়, তারা কোথায় যাবে?’’

এ দিনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাকে পাল্টা আক্রমণ করে বিজেপি। মমতা আগে বলে নিয়ে পরে ভাবনাচিন্তা করেন, এমনই কটাক্ষ করেছে তারা। অমিত শাহর সভার পরে তার উদ্দেশে তোপ দাগলেও এই প্রশ্নে বাকি দুই বিরোধী সিপিএম ও কংগ্রেস কাঠগড়ায় তুলেছে মমতাকেই। তাদেরও দাবি, ‘করোনা এক্সপ্রেস’ কথাটা তার মুখেই যে শোনা গিয়েছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

গত মাসের শেষে রেল মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করতে গিয়ে মমতা প্রশ্ন তুলেন ‘করোনা এক্সপ্রেস’ চালানো হচ্ছে কি না? তার বক্তব্য ছিল, ‘‘বাড়তি ট্রেন দিক না রেল মন্ত্রণালয়! আপনার উচিত শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা। লকডাউন ঘোষণা করলেন, এক দিনে গাদাগাদা ট্রেনে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় উঠিয়ে দিচ্ছেন। লোকগুলোকে জল-খাবার দিচ্ছেন না। লোকগুলো না খেতে পেয়ে ট্রেনেও অনেক সময়ে মারা যাচ্ছে। তার মানে কি আপনারা শ্রমিক এক্সপ্রেসের নামে করোনা এক্সপ্রেস করতে চান? করোনা এক্সপ্রেস চালাচ্ছেন?’’ আরও মন্তব্য ছিল, ‘‘খড়ের গাদার মতো আনছেন। যার ছিল না, তাকেও করোনা দিচ্ছেন!’’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত