বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থা আগামী এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন গত রাত ৮টার দিকে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লঘুচাপটি এদিন বেলা ১১টার দিকে সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নেয়। সাগর উত্তাল রয়েছে, তাই এটি নিম্নচাপে রূপ নিলেও নিতে পারে, এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর প্রভাবটা বন্দরসমূহে বেশি পড়ছে। তবে উপকূলীয় এলাকাসহ ঢাকা ও সিলেট অঞ্চলে এর প্রভাবে বৃষ্টি হতে পারে। লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ১৪-১৮ তারিখ পর্যন্ত বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে তাপমাত্রাও অনেকটা কম থাকবে।’
অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও এ মাসে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস নেই। শুধু ১-২টি মৌসুমি নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। গত ১৯ মে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানা সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর গত ৩ জুন ভারতের মহারাষ্ট্র উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘নিসর্গ’, যেটি বাংলাদেশের দেওয়া নাম ছিল। নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে ‘গাতি’, যেটি ভারতের দেওয়া নাম।
গতকাল সন্ধ্যার দিকে অধিদপ্তরের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে এবং বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
দক্ষিণপশ্চিম মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের পূর্বাংশ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এর ফলে এসব এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে ভোলায়। এদিন রাজধানীতেও ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এবং আবহাওয়া দিনভর মেঘাচ্ছন্ন ছিল। এদিকে গতকাল দেশের সামগ্রিক তাপমাত্রাও অনেকটা কমে গেছে। ফলে বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহও কেটে গেছে। রাজধানীতে তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ৪ ডিগ্রির মতো। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অধিদপ্তরের আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ জায়গাতেই বৃষ্টি হতে পারে, কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। সারা দেশেই দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
