ভাঙা রাস্তায় ভোগান্তিতে দিনাজপুর পৌরবাসী

আপডেট : ১৩ জুন ২০২০, ০৬:৩৪ এএম

দিনাজপুর পৌরসভার রাস্তার বর্তমান অবস্থায় সীমাহীন ভোগান্তিতে আছেন পৌর এলাকার বাসিন্দারা। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে তা এখন।

১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১ এপ্রিল দিনাজপুর পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ৪ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে পৌরসভাটিকে প্রথম শ্রেণিতে (ক শ্রেণি) উন্নীত করা হয়। এ পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের বসবাস।

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার না করায় শহরের কমবেশি সব রাস্তাই খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এতে পৌরবাসীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে চোখে পড়ে এমন চিত্র। পৌরবাসীদের অনেকেই বলছেন, দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র বিএনপি থেকে নির্বাচিত হওয়ায় এবং স্থানীয় এমপি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রার্থী হওয়ার কারণেই মতানৈক্যে মেলবন্ধন না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একজন উন্নয়ন চাইলে আরেকজন বাধাগ্রস্ত করে বলেও জানান অনেকেই।

এদিকে শহরের চৌরঙ্গী থেকে বাস টার্মিনাল, থানা মোড় থেকে বড় বন্দর হয়ে মহারাজা মোড়, কালুর মোড় থেকে ছোটগুড়গুলা, নিমতলা হয়ে মালদহপট্টি, চৌরঙ্গী থেকে রামনগর, সুইহারী থেকে গোলাপবাগ, বালুয়াডাঙ্গা শহীদ মিনার মোড় থেকে চাউলিয়াপট্টি, নিউটাউন মসজিদ রোড, শিল্পাঞ্চল পুলহাটের রাস্তাসহ শহরের কমবেশি সব রাস্তার অবস্থাই বেহাল। সড়কগুলোর অনেক জায়গায় ভেঙে যাওয়ার ফলে যানবাহন চলাচলেও ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। একটু বৃষ্টি হলেই পৌরসভার বেশির ভাগ এলাকার রাস্তা হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অকার্যকারিতা ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পুরো পৌর এলাকাই নর্দমায় পরিণত হয়েছে।

শুধু রাস্তাঘাটেরই এ অবস্থা নয়, শহরের বিভিন্ন জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে ময়লার ডাস্টবিনের কারণে যেখানে-সেখানে ময়লার স্তূপ জমে থাকে।

পৌরসভার ঘাসিপাড়া এলাকার মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, নিয়মিত কর দিই, কিন্তু রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার এত বাজে অবস্থা, যা একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর থেকে উপজেলার রাস্তাঘাটগুলোই ভালো আছে।

রাস্তাঘাটের নাজুক অবস্থার কথা স্বীকার করে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি বিএনপি থেকে দুবারের নির্বাচিত মেয়র। তাই কোনো এমপির সহযোগিতা পাইনি। তবে বর্তমানে দিনাজপুর পৌরসভায় নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সাত কোটি টাকার কাজ চলমান। এই প্রজেক্টের মধ্যে আরও আট কোটি টাকার কাজ হবে। এ ছাড়া এমজিএসপি (মিউনিসিপ্যাল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস প্রজেক্ট) প্রকল্প থেকে ৩০০ কোটি টাকার বাজেট শিগগিরই আসবে। পৌরসভার রাস্তাঘাট ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বন ও পরিবেশ বিভাগের আওতায় জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড থেকেও তিন কোটি টাকার বাজেট আমরা পাব।’

এ ব্যাপারে কথা বলতে দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ (জাতীয় সংসদের হুইপ) ইকবালুর রহিমকে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত