টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। দাদা-নাতি-নাতনিসহ একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
আক্রান্ত দাদা-নাতির পরিবার ঢাকা থেকে মির্জাপুরে গ্রামের বাড়ি এসে নমুনা দিয়েছিলেন। বর্তমানে তারা সপরিবারে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ নিয়ে এই উপজেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৬৪ জন।
শনিবার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম।
জানা গেছে, গত ৬ জুন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৭ জুন ঢাকায় পাঠায়। শনিবার তাদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজনসহ (দাদা-নাতি-নাতনি) ৯ জনের দেহে করোনা শনাক্তের খবর পায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
আক্রান্তরা হলেন, উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের ভাবখন্ড গ্রামের দাদা (৬৫) তাঁর আট বছরের নাতি ও দুই বছরের নাতনী, মির্জাপুর বাজারের বাসিন্দা (৫৫), ভাওড়া ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়ার বাসিন্দা (৩০), একই ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের করোনায় আক্রান্তের ছেলে (২৪), ময়মনসিংহ সদরের বাসিন্দা বর্তমানে মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলে অবস্থান করছেন (৩৫), পাবনা সদরের বাসিন্দা বর্তমানের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের থাকেন (৩০), গোড়াই ক্যাডেট কলেজ এলাকার বাসিন্দা (৪৫)।
আজকের ৯ জনসহ মির্জাপুরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্য ৬৪ পূর্ণ হল। এর মধ্যে একজন মারা গেছে, ১৩ জন সুস্থ্ হয়েছেন এবং বাকি ৫০ জন নিজ বাড়িতে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে গত এক সপ্তাহ যাবত মির্জাপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। এতে এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদকন্ঠা দেখা দিয়েছে।
ঢাকা, গাজীপুরের ও নারায়নগঞ্জ থেকে মির্জাপুরের বিভিন্ন গ্রামে আসা লোকদের মাধ্যমে করোনা ছড়াচ্ছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ মনে করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক জানান, আক্রান্তদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন বর্তমানে ঢাকায় অবস্থায় করছেন। অন্যরা নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেবেন। আক্রান্তদের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউনের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
