জয়পুরহাটে এক গৃহবধূকে ৩ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার ধলাহার এলাকায় এক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের থানায় মামলা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা। ওসি বলছেন, আরও তদন্ত করা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট জেলার পাশে নওগাঁর ধামুরহাট সাহাপুর কলোনি এলাকার দরিদ্র দুই সন্তানের এক গৃহবধূ (৩২) গত ৪ জুন পারিবারিক কলহে তার স্বামী তাকে মারধর করে। পরে গৃহবধূ তার বাবার বাড়িতে আসলে পূর্বের পরিচিত বেলাল কসাই (৪০) গৃহবধূকে বলে তার এলাকায় কবিরাজ আছে তার কাছ থেকে ঔষধ নিয়ে এসে তার স্বামীকে খাওয়ালে স্বামী আর মারধর করবে না।
গত ৫ জুন সকালে সরল বিশ্বাসে বেলালের সাথে ভ্যানে করে যাওয়ার পথের মধ্যে খাবারের সাথে অচেতন করার ঔষধ খাওয়ায় ও বেলালের বাড়ির পাশে চক-বরকত এলাকার চাঁদপুর গ্রামে মিস্টার (৩০) নামে একজনের বাড়িতে নিয়ে গেয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরের দিন গৃহবধূর জ্ঞান ফিরলে দেখেন তিনি একটি মাঠের মধ্যে এক বাড়িতে বেলাল ও তার সাথে জামতলী এলাকার এসকেন (৪২) ও ঐ ভ্যান চালক বাবুল (৩৫) ও বাড়িওয়ালা মিস্টার। গৃহবধূকে তারা বলে চিল্লাচিল্লী করবি না, বেলাল যা বলে তাই শুনবি, না হলে তোকে মেরে ফেলবো। তারপর থেকে বেলাল গৃহবধূকে ভয়ভীতি দেখে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করে।
গত ৮ জুন বিকেলে সুকৌশলে ঐ বাড়ির জানালা ভেঙে গৃহবধূ পালিয়ে পাশে শালপাড়া বাজারে যায়। সেখানে গৃহবধূকে বেলাল ধরতে গেলে এলাকাবাসীরা তাকে ধরে ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে।
তখন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারা মেয়েটির পরিবারের হাতে তুলে দেয়।
গৃহবধূর পরিবার জয়পুরহাট থানায় এসে ঘটনা জানালে ডিউটিতে থাকা পুলিশরা তাকে ঐ গৃহবধূ বাড়ির এলাকা ধামুরহাট থানায় মামলা করতে বলেন। তারা ধামুরহাট থানায় গেলে থানার ডিউটি অফিসার ঘটনা শুনে বলে ঘটনাস্থল জয়পুরহাট থানার অধীনে হওয়ায় জয়পুরহাটে মামলা করতে বলেন। তখন জয়পুরহাট থানায় এসে ওসিকে ঘটনা জানালে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে এজাহার নেওয়া হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, দরিদ্র গৃহবধূ ও তার পরিবার চরমভাবে ভীতির মধ্যে আছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার আরও জানান, এ ঘটানায় তার স্বামী বাড়িতে উঠতে দিচ্ছে না বাধ্য হয়ে বাবা, বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন গৃহবধূ। তারা এ ঘটনার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে বিচার দাবি চেয়েছেন। এদিকে এলাকাবাসীরাও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে ঐ গৃহবধূর উপরে অন্যায়ভাবে শালিস করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে বেলাল, মিস্টার, বাবুলের বাড়িতে গেলে তাদের পাওয়া যায়নি এবং মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্য অভিযুক্ত এসকেনের কাছে এ ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে কসাই বেলাল ব্যবসা করে। তার সমস্যার কারণ শুনে আমি গিয়েছিলাম আমি এ বিষয়ে আর কিছু জানি না বলে এড়িয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিন বলেন, কসাই বেলালসহ একজন মেয়েকে এলাকাবাসী ধরে নিয়ে এসেছিল। আমি তখন ঐ মেয়ের এলাকার চেয়ারম্যানকে জানাই, চেয়ারম্যান গৃহবধূর পরিবারকে খবর দিলে তারা আমার পরিষদে আসলে তাদের কাছে মেয়েটিকে বুঝে দেই এবং তাদের বলি আইনের আশ্রয় নিতে পারো। বেলালকেও তাদের পরিবারে হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে জয়পুরহাট থানার অফিসার ইনর্চাজ শারিয়ার খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মিনারা বেগমের অভিযোগের এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি। একজন অফিসার দিয়ে তদন্ত করে ঘটনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আরও ভালো করে তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
