দৌলতদিয়ায় নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার

আপডেট : ১৪ জুন ২০২০, ০১:৩৭ পিএম

করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে গোয়ালন্দ উপজেলার হাজারো পরিবার। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট। ফেরি ঘাট রক্ষায় কাজ শুরু হলেও অরক্ষিত রয়েছে এর বাইরের এলাকা। এ সকল এলাকায় ভাঙন শুরু হলে শত চেষ্টা করেও ঘাট রক্ষা করা যাবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়দের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদী ভাঙন হতে শুধুমাত্র দৌলতদিয়া ফেরিঘাটগুলোকে রক্ষা করতে ঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধানে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এর বাইরে ঘাটের উজানে নদীতে বিলীন হওয়ার পর অবশিষ্ট থাকা দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়ালজানি ও মধ্য কাওয়ালজানি পাড়া, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১নং ব্যাপারী পাড়া, সাহাজদ্দিন ব্যাপারী পাড়া, লালু মন্ডল পাড়া, নতুন পাড়া, ফেরি ঘাটের ভাটিতে বাইরে চরের সাত্তার ফকির পাড়া এবং ঘাট এলাকার সিদ্দিক কাজীর পাড়া ও সাহাদত মেম্বর পাড়ার অন্তত এক হাজার পরিবার এখনো প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা এবারের ভাঙনে এই গ্রামগুলো বিলীন হয়ে যাবে। সেই ক্ষেত্রে শত চেষ্টা করেও লঞ্চ ও ফেরিঘাটকে রক্ষা করা যাবে না।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ১নং ব্যাপারী পাড়ার বাসিন্দা হতদরিদ্র বাদল মন্ডল (৮০) বলেন, গতবারের ভাঙনে আমাদের এই গ্রামের বেশীর ভাগ অংশ বিলীন হয়ে গেছে। নদী আমার বাড়ী থেকে অল্প কয়েক গজ দূরে আছে। ভাঙন শুরু হওয়া মাত্রই আর এখানে থাকতে পারবো না। এ অবস্থায় গত কয়েকদিনে নদীর পারে থাকা ১৪-১৫টি পরিবার তাদের বাড়ীঘর ভেঙে অন্যত্র চলে গেছে। আরো অনেকেই যাওয়ার জন্য বাড়ীঘর ভাঙতে শুরু করেছে। কিন্তু আমার যাওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। এই ভিটাতেই খেয়ে না খেয়ে পড়ে আছি।

দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম জানান, নদী ভাঙনে তার ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা ইতিমধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এবারো ৪, ৫ ও ২নং ওয়ার্ডের আংশিক এলাকা হুমকির মুখে রয়েছে। আমরা বহুবার নদী ভাঙন রোধে স্থানীয় এমপি, প্রশাসন ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন নিবেদন করেছি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। ভরা বন্যার সময় যখন ভাঙনের তাণ্ডব শুরু হয় তখন মানুষকে শান্ত্বনা দেয়ার জন্য শুধুমাত্র কিছু জিওব্যাগ ফেলা হয়। তাতে অর্থের অপচয় ছাড়া কোনই উপকার হয় না।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, গত বছরের ভয়াবহ নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ১২শ এর অধিক পরিবার সর্বশান্ত হন। এবারো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটসহ অন্তত ১ হাজার পরিবার।

ঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধানে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। এর বাইরে ঘাট থেকে উজানে সাড়ে ৪ কিমি এলাকাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত