সামাজিক সংক্রমণের হার প্রতিনিয়ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন চট্টগ্রাম নগরবাসী। সংক্রমণ প্রতিরোধে এবার রেড জোনের আওতায় এনে কড়া লকডাউনে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। এ লক্ষে আগামী মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে নগরের ১০নং উত্তর কাট্টলি ওয়ার্ডে ২১ দিনের লকডাউন শুরু হবে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামে যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, সেটাকে দমাতেই হবে। এ লক্ষে সরকারি নির্দেশনায় এবার রেড জোনের আওতায় ওয়ার্ডভিত্তিক লকডাইন করা হবে। প্রথমে নগরের পাহাড়তলী থানাধীন ১০নং উত্তর কাট্টলি ওয়ার্ড দিয়ে এই লকডাউন কার্যক্রম শুরু করবো। আগামী মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে সেখানে লকডাউনের আওতায় কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। ইতোমধ্যে সামাজিক সংক্রমণের কারণে অনেকেই কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংক্রমণ মোকাবিলায় এবার লকডাউন এলাকায় কোন দোকানপাট খুলতে দেবেনা স্থানীয় প্রশাসন। এমনকি ওষুধের দোকানও খুলতে দেয়া হবে। কন্ট্রোলরুম খোলা হবে, সেখানে ফোন নাম্বার থাকবে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করা হবে। ইতোমধ্যে এ লক্ষে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনায় এ উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়ায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকে গত শনিবার (১৩ জুন) পর্যন্ত চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৮৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১১৭ জন। মোট আক্রান্তের মধ্যে ৭০ শতাংশই নগরের। স্বাস্থবিধি না মানা এবং সামাজিক সংক্রমণের কারণে এই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। মোট আক্রান্তের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরে রয়েছে ৩৫৬৭ জন এবং ১৪টি উপজেলায় ১৫১৭ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৩৪১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৩৭১ জন।
এদিকে, নগরে এই লকডাউন বাস্তবায়নে রবিবার বিকেলে চসিক কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, লকডাউন চলাকালীন সময়ে এলাকার লোকজন নিজের এলাকায় থাকবেন এবং বাইরের কেউ নিজেদের এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। যারা ঘরে আবদ্ধ থাকবেন তাদের প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণের জন্য চসিক এর পক্ষ থেকে মহল্লায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নির্দ্দিষ্ট টেলিফোন নম্বরে এলাকাবাসীর চাহিদা মোতাবেক ন্যায্য বাজারমূল্যে খাদ্য, ওষুধপত্রসহ দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাপনের উপকরণ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। যারা হতদরিদ্র তাদের অবস্থার কথা বিবেচনা করে চসিক তাদের চাহিদা পূরণ করবে বলেও জানান আ জ ম নাছির উদ্দিন।
বৈঠকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোস্তফা খালেদ আহমেদ, বাংলাদেশ ইনফেনট্রি রেজিমেন্টের(বিআইআর) এর সিও লে. কর্ণেল মাহবুব, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল আলম, চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেম, চসিকের আইসোলেশন সেন্টারের পরিচালক ডা. সুশান্ত বড়ুয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সম্বয়ক ডা. আইমং প্রু ও সিইও তৌহিদুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মোহাম্মদ আবদুল ওয়ারিশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব বাড়ার পর থেকে চসিক, সিএমপি, জেলা প্রশাসন পৃথক পৃথকভাবে গরিব ও মধ্যবিত্তদের সহযোগিতা করে আসছেন।
এমনকি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ব্যক্তি উদ্যোগে নগরের ২৮ হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে শুকনো খাবার ও নগদ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়াও আরো অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হতদরিদ্র পরিবারকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন।
