প্রযুক্তিসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৯ জুন ২০২০, ০৫:০৭ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। আমরা আরও সুযোগ-সুবিধা দেব। আমাদের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেন আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন হয় তাই চাই আমরা। বিশ্বের উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নৌবাহিনীর সদস্যদের টেকনোলজি জানতে হবে। সরকারপ্রধান বলেন, আগামীতে আমরাও যেন এমন যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতে পারি সে চিন্তা আমাদের করতে হবে। এছাড়া আমাদের নিজেদের প্রয়োজন ছাড়াও এ ধরনের জাহাজ যেন আমরা বিদেশে রপ্তানি করতে পারি সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বানৌজা ‘সংগ্রাম’-এর কমিশনিং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বানৌজা সংগ্রামের কমিশনিং করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল, আমাদের প্রবৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে বাড়ছিল, কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তি এসে সব উন্নয়ন অগ্রগতি স্তব্ধ করে দিয়েছে। উন্নত ও খুব শক্তিশালী এবং অতি দরিদ্র সবার একই অবস্থা সৃষ্টি করেছে এই অদৃশ্য শক্তি। এর বিরুদ্ধে কেউ লড়তে পারছে না। তিনি নৌবাহিনীর সব সদস্যকে সুরক্ষিত থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করার জন্য আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা শান্তি চাই। সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয় । বঙ্গবন্ধুর এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী।

শেখ হাসিনা এ সময় কভিড-১৯ মোকাবিলায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেই দায়িত্ব পালনেরও পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি নৌবাহিনীর সব সদস্যকে বলব আপনারা নিজেদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেই স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই করোনাভাইরাসের সময় নিজেকে এবং পরিবারকে সবাই সুরক্ষিত রাখবেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে বানৌজা সংগ্রামের কমিশনিং ফরমান জাহাজটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন আরিফুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে জাহাজটি নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রদর্শিত হয়। গণচীনে তৈরি বানৌজা সংগ্রাম ৯০ মিটার দীর্ঘ এবং ১১ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট। শত্রু বিমান, জাহাজ এবং স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম জাহাজটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কামান, ভূমি থেকে আকাশে এবং ভূমি থেকে ভূমিতে উৎক্ষেপণযোগ্য মিসাইল, অত্যাধুনিক থ্রিডি রাডার, ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, রাডার জ্যামিং সিস্টেমসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জামাদিতে সুসজ্জিত। জাহাজটিতে হেলিকপ্টার অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য ডেক ল্যান্ডিংসহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে।

সূত্র জানায়, গভীর সমুদ্রে দীর্ঘ সময়ব্যাপী মোতায়েনযোগ্য এ জাহাজের মাধ্যমে বিশাল সমুদ্র এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকানো, চোরাচালান ও জলদস্যুতা রোধ, সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা, সমুদ্র অর্থনীতির বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনাসহ মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি তেল, গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বরাদ্দকৃত ব্লকসমূহের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এছাড়া জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত শান্তিরক্ষা মিশনে লেবাননের ভূমধ্যসাগরে মোতায়েনের জন্য আজকের কমিশনিং শেষে আজ ১৯ জুন বানৌজা সংগ্রাম লেবাননের উদ্দেশে যাত্রা করবে। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় বিশ্ব মন্দা অব্যাহত থাকলেও তার সরকার দায়িত্বে এসেই অত্যাধুনিক ফ্রিগেট বানৌজা ‘বঙ্গবন্ধু’ ক্রয় করে এবং নৌবাহিনীকে আরও সুসংগঠিত এবং সুসজ্জিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, পুনরায় ২০০৮-এর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকে এই ক’বছর তার দল টানা দায়িত্বে থাকায় জাতির পিতার ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালার ওপর ভিত্তি করেই ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করে এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ প্রতিটি বাহিনীকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমাদের নৌবাহিনীতে সাবমেরিন এবং এভিয়েশন সিস্টেম যুক্ত হয়েছে। এখন আমাদের নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত